লক্ষ লক্ষ টাকা জলে যাচ্ছে, দায় কার? ৩ দিনের মধ্যে রিপোর্ট তলব মুখ্যমন্ত্রীর!

আকাশ দিয়ে না টিভি ইন্টারনেটের সমস্ত তার যাবে মাটির তলায়, গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর।
আকাশ দিয়ে না টিভি ইন্টারনেটের সমস্ত তার যাবে মাটির তলায়, গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ লক্ষ লক্ষ টাকা জলে যাচ্ছে, দায় কার? ৩ দিনের মধ্যে রিপোর্ট তলব করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকরা। সেই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন দায়িত্বহীনতায় ভুগছে দফতরগুলি। নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকে সেচ দফতরের কাজ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “প্রতিবছরই সেচ দফতর বাঁধ সারাচ্ছে, প্রতিবছরই ভেঙে যাচ্ছে। লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে জলে যাচ্ছে।”

আরও বলুনঃ উত্তরপ্রদেশে দুর্ঘটনায় মৃত দুই শ্রমিক পরিবারকে নিজে হাতে অর্থ সাহায্য ফিরহাদের।

এদিনের বৈঠকে আমফান প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমপানের সময় প্রচুর গাছ ভেঙেছে। সেই গাছ কোথায় গেল? দিঘায় জলোচ্ছ্বাস আর ইয়াসের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কতা উল্লেখ করে মমতা বলেন, “দিঘায়  কংক্রিটের পাথওয়ে কেন ভেঙে গেল? বসার চেয়ার ভেঙে গিয়েছে। কেন?” এরপর তিনি বলেন, দিঘাকে কেন্দ্র করে লক্ষ লক্ষ মানুষের উপার্জন হয়। সমুদ্রের বোল্ডার নষ্ট হয়ে গিয়েছে। হকারদের দোকানগুলি আবার তৈরি করতে হবে। বর্ষার আগে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে চাই।”

দিঘার সৌন্দর্যায়ন নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তা ঠিক করতে দিঘার চিফ ইঞ্জিনিয়ারকে দায়িত্ব নিতে হবে। প্রয়োজনে ১০০ দিনের কাজের লোক লাগাতে হবে। বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। মন্দারমনিতে হোটেল গুলির ক্ষয়ক্ষতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মন্দারমণিতে হোটেলের ক্ষতি হয়েছে নিজেদের দোষে। সমুদ্রের কাছে হোটেল তৈরি করেছে! দিঘার গাফিলতির তদন্ত হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

লক্ষ লক্ষ টাকা জলে যাচ্ছে, প্রতিবছরই লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে বাঁধ সারাই হচ্ছে। আবার ভেঙে যাচ্ছে। কেন তা জানতে ৩ দিনের মধ্যে রিপোর্ট তলব করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নদীর ভাঙন রুখতে কয়েকটি প্রস্তাবও দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বন দফতর কে বলেন, “৫ কোটি করে ম্যানগ্রোভ দুই ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে বসানো হোক। ভাঙন রুখতে নদীর পাড়ে ভ্যাটিভার ঘাস লাগানো হোক।”

ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির কথা বলতে গিয়ে বন দফতরের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট কী করেছে? ৫ কোটির ম্যানগ্রোভ পুঁতবে বলেছিল। হয়নি কেন? প্রসঙ্গত, ২০১১ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত রাজ্যের সেচমন্ত্রী ছিলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, পরে হন বনমন্ত্রী। গত বছর নভেম্বরে ইস্তফা দেওয়ার আগে পর্যন্ত সেচমন্ত্রী ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here