নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। এবার শিক্ষক বদলি মামলাতেও শুক্রবার বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন বিচারপতি। তাঁর কথায়, কোনও জঙ্গলের আইন চলতে পারে না। যে যার খুশি মতো কাজ করবেন এটা হতে পারে না। প্রশাসনের নির্দেশ মেনেই কাজ করতে হবে। এমনটাই নির্দেশ বিচারপতির।
আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই রিপোর্ট তলব করেছেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। শুধুমাত্র একজন, দু’জন নয়, নিয়োগ দুর্নীতির জালে জড়িয়ে ২৩ হাজার শিক্ষকের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সমস্ত নিয়োগ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। যার ফলে বাড়বে ভুয়ো নিয়োগের সংখ্যা বাড়বে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সময় যতই গড়াচ্ছে পেঁয়াজের খোসার মতো বের হচ্ছে নিয়োগ দুর্নীতি সম্পর্কিত একাধিক তথ্য। গতকাল একটি মামলায় ভুয়ো সুপারিশ পত্র এবং ভুয়ো নিয়োগ পত্র দিয়ে চাকরির অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সেই মামলায় বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। তাঁর কথায়, দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত জেলা স্কুল পরিদর্শকরা।
কখনও সাদা খাতা জমা দিয়ে, আবার কখনও নম্বর কারচুপি করে নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এবার নিয়োগ দুর্নীতিতে নজিরবিহীন ঘটনা দেখেই বিস্মিত কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। এক চাকরি প্রার্থীর সুপারিশপত্র নকল করে এবং নিয়োগপত্র নকল করে চাকরি পেয়েছেন এক চাকরি প্রার্থী। সেটা দেখেই সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিলেন বিচারপতি।
আগামী ১৬ জানুয়ারি ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলের সামনে সমাবেশের ডাক দিয়েছিল চাকরি প্রার্থীদের একাধিক সংগঠন। কিন্তু সোমবার মিছিল নয়। জানালেন হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা। ১৬ এর পরিবর্তে ১৮। তাঁর কথায়, ১৭ তারিখ গঙ্গাসাগর মেলা শেষ হচ্ছে। ১৬ জানুয়ারির পরিবর্তে ১৮ জানুয়ারি রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে মিছিল করতে পারবেন তাঁরা।
নিয়োগ দুর্নীতির প্রতিবাদে ৬৬৩ দিন ধরে রাজপথে বসে আন্দোলন জারি রেখেছেন চাকরি প্রার্থীরা। তাঁদের বক্তব্য ছিল, দ্রুত স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ শুরু করুক সরকার। অপেক্ষার দিন শেষ। পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতির মাঝে চাকরি প্রার্থীদের মুখে হাসি ফোঁটাল স্কুল সার্ভিস কমিশন। ওয়েটিং লিস্টে থাকা যোগ্যদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করল কমিশন।