মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর এবার প্রথমবার উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ২০ মে উত্তরবঙ্গে প্রশাসনিক বৈঠক করবেন তিনি। তারপর ২১ মে দুর্গাপুরে রাঢ়বঙ্গের প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সফর শুধুমাত্র প্রশাসনিক নয়, নতুন সরকারের শক্তি ও অগ্রাধিকারের বার্তাও বহন করছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, উত্তরবঙ্গ সফরে আট জেলার উন্নয়নমূলক প্রকল্প, প্রশাসনিক কাজের গতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে পাহাড় ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে প্রশাসনিক নজরদারি এবং পরিকাঠামো উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।


অন্যদিকে শনিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার ডায়মন্ড হারবারে প্রশাসনিক বৈঠক করছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে উপস্থিত রয়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পুলিশের শীর্ষকর্তা এবং জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে রাস্তার ধারে সাধারণ মানুষের ভিড়ও দেখা যায়।
রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পর জেলাস্তরে এটিই মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক। আর সেই বৈঠকের স্থান হিসেবে ডায়মন্ড হারবারকে বেছে নেওয়াকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ এই এলাকা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত।
সূত্রের খবর, বৈঠকে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি এবং প্রশাসনিক কাজে গতি আনার বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের আগে এই বৈঠককে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক— দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।


উত্তরবঙ্গ নিয়েও বিজেপির বিশেষ নজর রয়েছে। কারণ সাম্প্রতিক নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের আট জেলার ৫৪টি বিধানসভা আসনের অধিকাংশই বিজেপির দখলে গিয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের আটটি আসনের মধ্যে সাতটিতেই জয় পেয়েছিল বিজেপি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরবঙ্গ সফরের মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারী একদিকে প্রশাসনিক সক্রিয়তার বার্তা দিতে চাইছেন, অন্যদিকে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি আরও মজবুত করার কৌশলও স্পষ্ট করছেন।







