নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ঢুকে পড়তে পারে বর্ষা। কেন্দ্রীয় মৌসম ভবনের পূর্বাভাস বলছে, চলতি বছর কেরল উপকূলে স্বাভাবিকের আগেই মৌসুমি বায়ুর আগমন সম্ভব। এল নিনো-র আশঙ্কা থাকলেও আপাতত স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা।
কেরলে আগাম বর্ষার ইঙ্গিত, কী বলছে মৌসম ভবন
শনিবার কেন্দ্রীয় মৌসম ভবন (আইএমডি) জানায়, এ বার দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক সপ্তাহ আগেই কেরলে প্রবেশ করতে পারে। সম্ভাব্য দিন হিসেবে ধরা হচ্ছে ২৬ মে। সাধারণত ১ জুন কেরল উপকূলে মৌসুমি বৃষ্টি শুরু হয়।


“২৬ মে কেরল উপকূলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে।”
এই পূর্বাভাস ঘিরে ইতিমধ্যেই স্বস্তি মিলেছে কৃষি মহলে। কারণ, সময়ের আগে বর্ষা ঢুকলে চাষের প্রস্তুতি এগিয়ে আনা সম্ভব হয়। বিশেষ করে ধান-সহ একাধিক ফসলের ক্ষেত্রে এই আগাম বৃষ্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
এদিকে, মৌসম ভবনের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আগামী ১৬ মে-র মধ্যেই সেখানে বর্ষার প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে, যা মূল ভূখণ্ডে মৌসুমির আগমনের পূর্বাভাস হিসেবে ধরা হয়।


“আন্দামান-নিকোবর এবং সংলগ্ন এলাকায় মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতি অনুকূল।”
তবে আবহাওয়ার এই ইতিবাচক চিত্রের মাঝেও রয়ে গেছে এল নিনো-র ছায়া। সাধারণত এই পরিস্থিতি তৈরি হলে মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বৃষ্টিপাতের ঘাটতি দেখা দেয়। প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ স্রোত নিম্নচাপ গঠনে বাধা সৃষ্টি করে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে ভারতের বৃষ্টিপাতের উপরে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্টেও সেই আশঙ্কার ইঙ্গিত রয়েছে। মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে ফের এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল বলেই জানানো হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের বহু অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন হতে পারে।
“নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে, যা এল নিনো-র ইঙ্গিত দিচ্ছে।”
যদিও অতীতে এমন বহু বছর দেখা গিয়েছে, যখন এল নিনোর উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন অংশে স্বাভাবিক বা তার কাছাকাছি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে আবহাওয়াবিদদের একাংশ মনে করছেন, এ বছরও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নেতিবাচক হবে এমনটা নিশ্চিত নয়।
অন্যদিকে, আগাম বর্ষা বাংলার আবহাওয়াতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। জুনের প্রথম সপ্তাহেই দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, যা তাপপ্রবাহ থেকে কিছুটা স্বস্তি এনে দেবে।
সব মিলিয়ে, মৌসুমি বায়ুর আগাম আগমন যদি সত্যিই ঘটে, তবে তা কৃষি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। আপাতত আবহাওয়ার ছবিতে আশার আলোই বেশি স্পষ্ট।







