‘আপনি আসবেন কেন?’—মিঠুনের বাড়িতে শুভেন্দু অধিকারী, ‘সেরা মুখ্যমন্ত্রী’ বললেন মহাগুরু

মিঠুন চক্রবর্তীর বাড়িতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠক, পারস্পরিক প্রশংসা ও ‘সেরা মুখ্যমন্ত্রী’ মন্তব্যে রাজ্যের রাজনৈতিক বার্তা আরও জোরালো

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মিঠুন চক্রবর্তীর নিউ টাউনের বাড়িতে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকের পর একে অপরকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন দুই নেতা—‘পরিবর্তনের কারিগর’ থেকে ‘সেরা মুখ্যমন্ত্রী’, মন্তব্যে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে।

শনিবার সকালে সিনিয়র বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তীর বাড়িতে যান শুভেন্দু। শপথ নেওয়ার পর এই প্রথম আলাদা করে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক হয়। প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

বৈঠক শেষে শুভেন্দু বলেন, মিঠুন চক্রবর্তী রাজ্যে পরিবর্তনের অন্যতম কারিগর। গত কয়েক বছরে বিজেপির উত্থানে তাঁর ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

“আপনি আসবেন কেন? আপনার তৈরি করা মুখ্যমন্ত্রী আপনার কাছে আসবে।”

শুভেন্দুর এই মন্তব্যে আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয়। সূত্রের খবর, কথার শেষে তাঁকে জড়িয়েও ধরেন মিঠুন।

শুভেন্দু আরও বলেন, দলের সিদ্ধান্তে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, আর তার পিছনেও মিঠুন চক্রবর্তীর অবদান রয়েছে। তাঁর কথায়, “গত ছ’বছর ধরে পরিবর্তনের জন্য তিনি পরিশ্রম করেছেন, নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ করেছেন।”

পাল্টা শুভেন্দু অধিকারীকেও প্রশংসায় ভরিয়ে দেন মিঠুন। তাঁর দাবি,

“এর থেকে ভালো মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে হতে পারে না। আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলছি।”

শপথ নেওয়ার পর থেকেই শুভেন্দু কাজ শুরু করে দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি জানান, তাঁর প্রতি সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

শনিবার থেকেই দক্ষিণ ২৪ পরগনায় জেলা সফর শুরু করছেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রথমেই ডায়মন্ড হারবারে প্রশাসনিক বৈঠক রয়েছে তাঁর। আগামী ২১ মে ফলতায় পুনর্নির্বাচনের আগে জেলার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তিনি।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই সাক্ষাৎ শুধুই সৌজন্য নয়, বরং আসন্ন নির্বাচনের আগে সংগঠন ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি আরও মজবুত করার বার্তা দিচ্ছে।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপির হয়ে প্রচার করেছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। সেই সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়নের বিষয়েও এদিন আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

মিঠুন বলেন, “যেখানে যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সব পূরণ করব। মুখ্যমন্ত্রী আমাকে কাজ করতে বলেছেন, সেটাই অনুসরণ করব।”

এই সাক্ষাৎ যে শুধুমাত্র সৌজন্যের সীমায় আটকে নেই, বরং রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে—তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত