দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে কলকাতার যাত্রীদের। চিংড়িঘাটার বহু আলোচিত ‘মিসিং লিঙ্ক’-এর কাজ শুরু হওয়ায় নিউ গড়িয়া থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত অরেঞ্জ লাইনের মেট্রো পরিষেবা চালুর আশা আরও জোরালো হল। মেট্রো কর্তৃপক্ষের আশাবাদ, সবকিছু পরিকল্পনা মতো এগোলে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত মেট্রো চালু হয়ে যেতে পারে। এতে প্রতিদিন লাখ লাখ যাত্রীর যাতায়াতে বড়সড় সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে অরেঞ্জ লাইনের মেট্রো পরিষেবা চালু রয়েছে নিউ গড়িয়া থেকে বেলেঘাটার মেট্রোপলিটন স্টেশন পর্যন্ত। তবে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত পরিষেবা সম্প্রসারণ আটকে ছিল চিংড়িঘাটার ৩৬৬ মিটারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের জন্য, যা ‘মিসিং লিঙ্ক’ নামে পরিচিত।


মেট্রো সূত্রের দাবি, পূর্ববর্তী রাজ্য সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা এবং অনুমতির অভাবে ওই অংশের কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পরিস্থিতি বদলেছে বলে দাবি রেলমন্ত্রকের। শনিবার রাত থেকেই শুরু হচ্ছে চিংড়িঘাটার সেই গুরুত্বপূর্ণ অংশে গার্ডার বসানোর কাজ।
মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাজ হবে দু’দফায়। প্রথম দফায় শনিবার রাত ৮টা থেকে শুরু হয়ে চলবে ১৮ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত। দ্বিতীয় দফার কাজ শুরু হবে আগামী ২২ মে রাত ৮টা থেকে এবং চলবে ২৫ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত। অর্থাৎ মোট ১২০ ঘণ্টা ধরে চলবে এই গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণপর্ব।


এই পর্যায়ে ইএম বাইপাসের উল্টোডাঙামুখী অংশে ৩১৭ ও ৩১৮ নম্বর স্তম্ভের মধ্যে কংক্রিট গার্ডার বসানো হবে। পরের সপ্তাহে ৩১৮ ও ৩১৯ নম্বর স্তম্ভের মধ্যে একই ধরনের কাজ হবে। এই অংশ সম্পূর্ণ হয়ে গেলে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত মেট্রো চালুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা কার্যত কেটে যাবে।
এই প্রসঙ্গে অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর ডাবল ইঞ্জিন সরকার এসেছে। তিন বছর ধরে আটকে থাকা চিংড়িঘাটার সমস্যার সমাধান হয়েছে। কলকাতা পুলিশের অনুমতিও পাওয়া গিয়েছে। এবার কাজ শুরু হচ্ছে।”
মেট্রো সম্প্রসারণের এই কাজ শেষ হলে নিউ গড়িয়া থেকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত যাতায়াত আরও দ্রুত ও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে অফিসযাত্রী ও তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের জন্য এটি বড় স্বস্তির খবর।







