প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের ভিতর থেকেই চলছিল অপরাধচক্রের নেটওয়ার্ক! বন্দিদের হাতে স্মার্টফোন পৌঁছে যাওয়ার অভিযোগ সামনে আসতেই কড়া পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে তল্লাশি চালিয়ে একাধিক মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনায় সাসপেন্ড করা হয়েছে জেলের সুপার এবং চিফ কন্ট্রোলারকে। পাশাপাশি গোটা ঘটনায় সিআইডি তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার বিধানসভা থেকে সরাসরি নবান্নে গিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরই রাজ্য পুলিশের ডিজিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছিল। তদন্তে অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হওয়ার পর কলকাতা পুলিশের ডিসি সাউথ এবং ডিজি কারেকশনাল হোমের উপস্থিতিতে যৌথ অভিযান চালানো হয় প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে।
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, “জেলের ভিতরে বসেই অপরাধীরা গোটা রাজ্যে নেটওয়ার্ক চালাচ্ছে। আগের সরকারের মদত অথবা চরম গাফিলতি না থাকলে এটা সম্ভব নয়।” তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়া একদিনের নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে নিচু স্তর থেকে উঁচু স্তর পর্যন্ত দুর্নীতির আঁতাঁত তৈরি হয়েছিল।
সরকারি সূত্রে খবর, প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের সুপার এন কুজুর এবং চিফ কন্ট্রোলার দীপ্ত ঘরাইকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা, “যাঁদের যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা ঠিকভাবে পালন করতে হবে। কর্তব্যে গাফিলতি হলে শুধু অপরাধী নয়, অপরাধে সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শুভেন্দু আরও জানান, শুধু প্রেসিডেন্সি নয়, দমদম থেকে বহরমপুর— একাধিক সংশোধনাগারে একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে জেলে বসেই অপরাধচক্র চালানোর অভিযোগে কুখ্যাত কয়েকজন বন্দির উপর নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। তিনি নাম না করে শাহজাহানের প্রসঙ্গও তোলেন।
এখন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলো কার নামে ছিল, কীভাবে জেলের ভিতরে ঢুকল এবং সেই ফোন ব্যবহার করে কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছিল— সেই তথ্য সামনে আনা। সেই কারণেই গোটা ঘটনায় সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে কড়া অবস্থান নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছিল, প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের এই পদক্ষেপ তারই বড় উদাহরণ।



