দ্বিতীয় দিনেও ভবানীভবনে ৬ ঘণ্টা জেরা, ‘আত্মগোপন’ নিয়ে মুখ খুললেন অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে দ্বিতীয় দিনেও প্রায় ৬ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ সিআইডির। ভবানীভবন থেকে বেরিয়ে ‘আশেপাশেই ছিলাম’ বলে আত্মগোপন নিয়ে জবাব দিলেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দু’দিনে প্রায় ১৬ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ। রবিবারও ভবানীভবনে সিআইডির মুখোমুখি হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। প্রথম দিন প্রায় ১০ ঘণ্টা জেরার পর দ্বিতীয় দিনে তাঁকে প্রায় ছ’ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ ভবানীভবন থেকে বেরনোর সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন সুমিত। এতদিন কোথায় ছিলেন, কেন প্রকাশ্যে আসছিলেন না—সেই প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত জবাবও দিয়েছেন তিনি।

ভবানীভবন থেকে বেরিয়ে সুমিত বলেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশমতোই সব করছি। আশেপাশেই ছিলাম।’’ এর বেশি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। অর্থাৎ এতদিন তাঁর ‘গা-ঢাকা’ দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে সরাসরি কোনও ব্যাখ্যা দেননি অভিষেকের আপ্তসহায়ক।

সুমিতের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের তদন্ত করছে সিআইডি। মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরার সঙ্গে কথিত আর্থিক লেনদেন, প্রার্থী করার বিনিময়ে টাকা নেওয়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের জমি সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগের মতো একাধিক বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলি সুমিত অস্বীকার করেছেন।

সুজয় হাজরার সঙ্গে কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সুমিতের জবাব, ‘‘সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। এমন কিছু নয়।’’ তদন্তের প্রয়োজনে ফের ডাকা হলে হাজিরা দেবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে সিআইডির একাধিক তলব সত্ত্বেও সুমিত রায় হাজিরা দেননি বলে অভিযোগ উঠেছিল। পরে গ্রেপ্তারি এড়াতে তিনি সুপ্রিম কোর্ট এবং কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হন। আদালতের দেওয়া সুরক্ষার শর্ত অনুযায়ী তদন্তকারী সংস্থার কাছে হাজিরা দিতে হচ্ছে তাঁকে।

শনিবার ছিল সুমিতের প্রথম হাজিরা। ওই দিন সকাল থেকে দীর্ঘ সময় ধরে ভবানীভবনে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। প্রায় ১০ ঘণ্টার জেরার পর রাত ৯টার পরে সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান। সেদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও মন্তব্য করেননি।

রবিবারও জিজ্ঞাসাবাদের আগে অভিষেকের বাড়িতে গিয়েছিলেন সুমিত। এরপর নির্ধারিত সময়ে ভবানীভবনে পৌঁছে তদন্তকারীদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন। দ্বিতীয় দিনের জিজ্ঞাসাবাদও চলে বেশ কয়েক ঘণ্টা।

সূত্রের খবর, শুধু শালবনির জমি সংক্রান্ত মামলাই নয়, সুমিত রায়কে এবার ডেবরার একটি জমি দুর্নীতি মামলাতেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সোমবার তাঁকে ফের ভবানীভবনে হাজির হতে বলা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

অর্থাৎ তদন্তের পরিধি আরও বাড়ছে। শালবনির মামলায় টানা দু’দিন জিজ্ঞাসাবাদের পর এবার ডেবরার মামলাতেও সুমিতের বক্তব্য রেকর্ড করতে চাইছে তদন্তকারী সংস্থা। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা কতটা, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সিআইডি।

এদিকে সুমিতের দাবি, তিনি আদালতের নির্দেশ মেনেই তদন্তে সহযোগিতা করছেন। ‘আশেপাশেই ছিলেন’ বলে আত্মগোপন নিয়ে প্রশ্নের জবাব দিলেও কোথায় ছিলেন বা কেন প্রকাশ্যে আসেননি, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি। ফলে আগামী দিনের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তে তাঁর কাছ থেকে আর কী তথ্য পাওয়া যায়, এখন সেদিকেই নজর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন