নজরবন্দি ব্যুরো: নয়াদিল্লিতে ছাত্রবিক্ষোভ ঘিরে পুলিশি বলপ্রয়োগের অভিযোগে উত্তপ্ত সংসদে অবশেষে অবস্থান বদল করল কেন্দ্র। বিরোধীদের লাগাতার চাপ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবির আবহে এবার অমিত শাহের বিবৃতি দেওয়ার কথা জানালেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু। এতদিন অধিবেশনে অনুপস্থিত থাকা শাহ এবার যন্তর মন্তর-কাণ্ড নিয়ে সংসদে জবাব দেবেন বলে জানিয়েছে সরকার।
সোমবার রিজিজু বলেন, পড়ুয়াদের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্ত বিষয় নিয়ে সংসদে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত সরকার। বিরোধীরা যে প্রশ্নগুলি তুলেছেন, তারও জবাব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই এই বিষয়ে সংসদে বক্তব্য রাখবেন।
রিজিজু একইসঙ্গে বিরোধীদের কাছে সংসদের ভিতরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য এবং প্রশ্নোত্তরের সময় যেন কোনও ধরনের হইহট্টগোল বা অস্থিরতা তৈরি না করা হয়। শাহের বক্তব্য শোনার জন্য বিরোধীদের সহযোগিতা করার আবেদনও জানিয়েছেন তিনি।
তবে ঠিক কবে অমিত শাহ সংসদে এই বিবৃতি দেবেন, তা এখনও জানানো হয়নি। আগামী ১৩ অগস্ট সংসদের বাদল অধিবেশন শেষ হওয়ার কথা। ফলে হাতে থাকা অল্প সময়ের মধ্যেই শাহকে বক্তব্য রাখতে হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ছাত্রসমাবেশ এবং গত ২০ জুলাই পড়ুয়াদের সংসদ অভিযানে দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের সূত্রপাত। প্রতিবাদীদের উপর পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি কাঁদানে গ্যাস এবং পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগও সামনে আসে।
বিরোধীদের বক্তব্য, আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে কেন্দ্রের স্বচ্ছ জবাব প্রয়োজন। বিশেষ করে দিল্লি পুলিশ সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকায় এই ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়বদ্ধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির।
এই ইস্যুতেই লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী (Rahul Gandhi) ইতিমধ্যেই অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ছাত্রছাত্রীদের উপর পুলিশি বলপ্রয়োগের বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অজানা ছিল না। এমনকি পুলিশের লাঠিচার্জ তাঁর নির্দেশেই হয়েছে বলেও দাবি করেছেন রাহুল।
অন্যদিকে, শাহের বিবৃতির দাবিতে সংসদের ভিতরে এবং বাইরে ধারাবাহিকভাবে বিক্ষোভ দেখিয়ে আসছে বিরোধী দলগুলি। তাদের স্পষ্ট অবস্থান ছিল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে এসে জবাব না দেওয়া পর্যন্ত অন্য কোনও বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেবে না তারা।
এই পরিস্থিতিতে বিরোধীদের লাগাতার প্রতিবাদের জেরে লোকসভা ও রাজ্যসভার কার্যক্রমও একাধিকবার মুলতুবি হয়েছে। ফলে বাদল অধিবেশনের শেষলগ্নে বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের উপর চাপ ক্রমশ বাড়ছিল।
এবার সেই চাপের মধ্যেই কেন্দ্রের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হল, সংসদে বক্তব্য রাখবেন অমিত শাহ। ফলে তাঁর বিবৃতিতে যন্তর মন্তরের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা, পড়ুয়াদের উপর বলপ্রয়োগের অভিযোগ এবং বিরোধীদের তোলা একাধিক প্রশ্নের কী জবাব আসে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের। তবে শাহের বক্তব্যের দিন-ক্ষণ এখনও নির্দিষ্ট না হওয়ায় সংসদের শেষ কয়েকটি দিনেই এই ইস্যু আরও উত্তপ্ত হয় কি না, সেটাই এখন দেখার।



