রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেল না ‘গুন্ডাদমন’ বিল, NDPS আইনের সঙ্গে সংঘাতের আপত্তি

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পাশ হওয়া ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’ রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেল না। কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে সংঘাতের আশঙ্কা দেখিয়ে বিলটি পুনর্বিবেচনার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি সামনে এসেছে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর দফতরের তরফে বিলটি ফেরত দেওয়ার পর।

রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো বিলের একটি অংশে ‘গুন্ডা’র সংজ্ঞার আওতায় NDPS Act, 1985-এর অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। কেন্দ্রের বক্তব্য, এই বিধান মাদক সংক্রান্ত অপরাধে আগাম আটক বা preventive detention-এর ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে ওভারল্যাপ তৈরি করতে পারে।

কী কারণে আটকে গেল ‘গুন্ডাদমন’ বিল?

‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’ ২৯ জুন বিধানসভায় পাশ হয়। বিলটির লক্ষ্য ছিল রাজ্যে সংগঠিত অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা জোরদার করা। বিধানসভায় বিলটি ১৭৬-৪১ ভোটে পাশ হয়েছিল বলে PTI-র প্রতিবেদনে জানানো হয়।

বিলটিতে ‘গুন্ডা’ এবং ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’-এর পরিধি নির্ধারণের পাশাপাশি নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে একাধিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছিল। তার মধ্যে কোনও ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট এলাকা, জেলা বা একাধিক জেলা থেকে সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য বহিষ্কারের ক্ষমতাও ছিল।

এছাড়া, বিলের মূল কাঠামোয় জননিরাপত্তার স্বার্থে ভবিষ্যতে অসামাজিক কার্যকলাপ ঠেকাতে preventive detention-এর মতো কঠোর ব্যবস্থার সুযোগ রাখা হয়েছিল। এই বিষয়টি নিয়েই বিরোধীদের তরফে আগেও প্রশ্ন উঠেছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য বিধানসভায় জানিয়েছিলেন, আইনটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য ব্যবহার করা হবে না।

NDPS আইনের সঙ্গে কোথায় সংঘাত?

রাষ্ট্রপতির কাছে বিল পাঠানোর পর কেন্দ্রের তরফে যে আপত্তি জানানো হয়েছে, তার মূল বিষয় বিলের ২(ডি)(iii)(বি) ধারা। সেখানে NDPS Act, 1985-এর আওতায় পড়া অপরাধকে ‘গুন্ডা’র সংজ্ঞার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল।

কেন্দ্রের বক্তব্য, মাদক সংক্রান্ত অপরাধে preventive detention-এর জন্য ইতিমধ্যেই Prevention of Illicit Traffic in Narcotic Drugs and Psychotropic Substances Act, 1988 বা PITNDPS Act রয়েছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গের প্রস্তাবিত আইনে একই ধরনের আটক ব্যবস্থার সুযোগ তৈরি হলে দুই আইনের মধ্যে overlap বা সমান্তরাল ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে।

কেন্দ্রের নোটে আরও বলা হয়েছে, এই সংঘাত ভারতীয় সংবিধানের ২৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। সেই কারণে প্রস্তাবিত আইনের সংশ্লিষ্ট অংশ থেকে NDPS Act-এর অধীনে অপরাধের উল্লেখ বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবার বিধানসভায় পেশ করা যাবে বিল

রাষ্ট্রপতির অনুমোদন না পাওয়ায় বিলটির প্রক্রিয়া এখানেই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় সংশোধন করে বিলটি ফের বিধানসভায় পেশ করার সুযোগ রয়েছে। সংশোধিত বিল বিধানসভায় পাশ হওয়ার পর ফের রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো যেতে পারে বলে রাজ্য প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন।

এদিকে, বিলটির সাংবিধানিক অবস্থান নিয়েও এর আগে প্রশ্ন উঠেছিল। ৬ আগস্ট কলকাতা হাই কোর্টে এই বিলকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া তিনটি জনস্বার্থ মামলা খারিজ করা হয়। আদালত জানায়, রাষ্ট্রপতির অনুমোদন না পাওয়ায় বিলটি তখনও আইনে পরিণত হয়নি এবং তাই সেই পর্যায়ে মামলা করা আগাম ছিল।

অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতির ফেরত পাঠানোর পর এখন রাজ্য সরকারের সামনে মূল কাজ হল কেন্দ্রের আপত্তির জায়গাগুলি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা। এরপরই বিলটি নতুন করে বিধানসভায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

অভিষেকের কটাক্ষ

রাষ্ট্রপতির অনুমোদন না পাওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে সরকারের উদ্দেশে কটাক্ষ করেছেন বলে আপনার দেওয়া সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর বক্তব্যের সারকথা, ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের প্রশাসনিক কার্যকলাপে গতি না থেকে উল্টো সংশোধনের জন্য বিল ফেরত এসেছে।

তবে বিলটি ফেরত পাঠানোর সরকারি কারণ হিসেবে যে বিষয়টি নথিভুক্ত হয়েছে, তা হল NDPS Act, 1985 এবং PITNDPS Act, 1988-এর সঙ্গে সম্ভাব্য আইনি সংঘাত।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন