বয়স বাড়লেই নয়, ২০ পেরোলেই হার্টের যত্নে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ চিকিৎসকদের

অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ধূমপান ও ওবেসিটির মতো কারণ নিয়ে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০ বছর থেকেই হৃদ্‌স্বাস্থ্যের পরীক্ষা নিয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

একসময় হার্ট অ্যাটাককে মূলত বেশি বয়সের সমস্যা বলেই মনে করা হত। কিন্তু জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে কম বয়সিদের মধ্যেও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অনিয়মিত খাবার, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব থেকে শুরু করে ধূমপান ও ওবেসিটি—একাধিক কারণ এই ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

এই বিষয়েই সতর্ক করেছেন মণিপাল হাসপাতাল সল্টলেকের হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞরা। ইন্টারভেনশনাল কার্ডিয়োলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট প্রফেসর চিকিৎসক রঞ্জন কুমার শর্মা এবং ইন্টারভেনশনাল কার্ডিয়োলজিস্ট কনসালট্যান্ট চিকিৎসক রাজা নাগ তরুণদের হৃদ্‌স্বাস্থ্যের বিষয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

কেন কম বয়সেও বাড়ছে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি?

চিকিৎসক রঞ্জন কুমার শর্মার মতে, খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপনের ধরন হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ানোর অন্যতম কারণ। অতিরিক্ত নুন ও ফ্যাটযুক্ত খাবারের পাশাপাশি অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় জীবনযাপনও সমস্যাকে বাড়াতে পারে। এর সঙ্গে পরিবেশ দূষণকেও তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে উপসর্গকে অবহেলা না করার উপরেও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। অনেক সময় বুকের অস্বস্তি বা অন্যান্য উপসর্গকে সাধারণ গ্যাস-অম্বল ভেবে এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। চিকিৎসকের বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবারে হৃদ্‌রোগের ইতিহাস থাকলে কিংবা কারও সুগার ও কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলে ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে।

২০ বছর থেকেই স্বাস্থ্যপরীক্ষার পরামর্শ

ইন্টারভেনশনাল কার্ডিয়োলজিস্ট চিকিৎসক রাজা নাগের বক্তব্যে আরও একটি বিষয় উঠে এসেছে। তাঁর মতে, বর্তমানে ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সিদের মধ্যেও হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

এই কারণেই ২০ বছর বয়স হওয়ার পর অন্তত একবার রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং ব্লাড সুগার পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যাঁরা ধূমপান করেন অথবা ওবেসিটির সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ৩০ বছর বয়সের পর নিয়মিত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

অর্থাৎ, শুধু বয়স বাড়ার পর হৃদ্‌স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিলেই হবে না—তরুণ বয়স থেকেই ঝুঁকির কারণগুলি সম্পর্কে সচেতন থাকার উপর জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

ওবেসিটি, ডায়াবিটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ে সতর্কতা

চিকিৎসকদের আলোচনায় ওবেসিটি, ডায়াবিটিস এবং কোলেস্টেরলকে হৃদ্‌রোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ডায়াবিটিস রক্তনালির উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে চিকিৎসকেরা সতর্ক করেছেন। অতিরিক্ত ওজনও একাধিক স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত।

তাই হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে শুধু শরীরচর্চার উপর নির্ভর না করে নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা এবং জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ধূমপান থেকে দূরে থাকাকেও চিকিৎসকেরা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।

বিশেষ করে পরিবারে হৃদ্‌রোগের ইতিহাস থাকা, সুগার বা কোলেস্টেরল বেশি থাকা, ধূমপান কিংবা ওবেসিটির মতো ঝুঁকি থাকলে নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে কোনও ব্যক্তির ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নির্ধারণের বিষয়টি ব্যক্তিগত চিকিৎসা-ইতিহাসের উপর নির্ভর করে। উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে ‘গ্যাস’ বা অন্য কোনও সাধারণ সমস্যা ধরে না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন