পিংলার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অজিত মাইতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ভোররাতে খড়গপুরের বাড়িতে পুলিশ পৌঁছে তাঁকে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ডেবরা থানায় পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে ঠিক কোন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেই বিষয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসেনি। প্রাথমিকভাবে পুরনো একটি মামলার কথা জানা গেলেও মামলাটির বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ্যে আসেনি।
অজিত মাইতি দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত। অবিভক্ত পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পিংলা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন। সরকারি নির্বাচনী নথিতেও পিংলা আসনের নির্বাচিত বিধায়ক হিসেবে তাঁর নাম রয়েছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকাতেও পিংলা থেকে তৃণমূলের অজিত মাইতির নাম ছিল। নির্বাচনী হলফনামা-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা উল্লেখ করা হয়নি।
ভোররাতে বাড়িতে পুলিশ
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে খড়গপুরের বাড়িতেই ছিলেন অজিত মাইতি। শুক্রবার ভোরে সেখানে পৌঁছয় খড়গপুর থানার পুলিশ। তাঁকে বাড়ি থেকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর গ্রেপ্তার করে ডেবরা থানায় পাঠানো হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
কোন পুরনো মামলার ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ, সেই বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য মেলেনি। পুলিশের তরফে গ্রেপ্তারের কারণ বা মামলার ধারাগুলি নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিতভাবে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাচ্ছে না।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তৃণমূলের
অজিত মাইতির গ্রেপ্তারিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছে তৃণমূল। দলের রাজ্য সম্পাদক প্রদ্যুত ঘোষের দাবি, পুরনো মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।
প্রদ্যুত ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, শুক্রবার কলকাতায় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল অজিত মাইতির। তার আগেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, এই গ্রেপ্তারির পিছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে।
তবে তৃণমূলের এই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগের স্বাধীন কোনও প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। পুলিশের তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট মামলার নথি প্রকাশ্যে এলে গ্রেপ্তারের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যেতে পারে।
উল্লেখ্য, অজিত মাইতি নামে আরও এক তৃণমূল নেতাকে ২০২৪ সালে সন্দেশখালি-কাণ্ডে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। একই নামের কারণে সেই সময় পিংলার তৎকালীন বিধায়ক অজিত মাইতিকে নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার সংবাদ প্রতিবেদনেও দুই ব্যক্তির পরিচয় আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছিল।
এবার পিংলার প্রাক্তন বিধায়ক অজিত মাইতির গ্রেপ্তারের ঘটনায় ঠিক কোন মামলাটি রয়েছে এবং তদন্তে পুলিশের অভিযোগ কী, সেই তথ্যই এখন নজরে।



