‘হাফিজ সঈদকে কবে ধরবেন?’ রাষ্ট্রসঙ্ঘে শরিফকে সরাসরি প্রশ্ন, উত্তর না দিয়ে পালালেন পাক প্রধানমন্ত্রী

৮১তম রাষ্ট্রসঙ্ঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে গিয়ে হাফিজ সঈদ ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতীয় সাংবাদিকের পরপর দুই প্রশ্নের মুখে পড়েন শাহবাজ শরিফ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাষ্ট্রসঙ্ঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করলেন ভারতীয় সাংবাদিক। লস্কর-ই-তৈয়বার (LeT) প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ মহম্মদ সঈদকে কবে বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং পাকিস্তান কবে সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করবে—পরপর এমন প্রশ্ন করা হয় তাঁকে। দুই ক্ষেত্রেই কোনও উত্তর না দিয়ে এগিয়ে যান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সদর দফতরে ঢোকার সময় শাহবাজ শরিফকে ANI-এর সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, “প্রধানমন্ত্রী, আপনারা কবে সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করবেন?” প্রশ্নের কোনও জবাব না দিয়ে শরিফ ভিতরে চলে যান। পরে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সদর দফতর থেকে বেরনোর সময় ফের তাঁর মুখোমুখি হন সাংবাদিকরা। এবার প্রশ্ন করা হয়, “লস্কর-ই-তৈয়বার প্রধান হাফিজ সঈদের বিচার আপনারা কবে করবেন?” দ্বিতীয় প্রশ্নেরও উত্তর দেননি পাক প্রধানমন্ত্রী।

হাফিজ সঈদকে ঘিরে কেন প্রশ্ন?

হাফিজ মহম্মদ সঈদ নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার প্রতিষ্ঠাতা। ভারতীয় আইনে তাঁকে সন্ত্রাসবাদী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ২৬/১১ মুম্বই হামলা মামলায় তিনি অভিযুক্ত। সাম্প্রতিক সময়ে ২০২৫ সালের পহেলগাঁও হামলার তদন্তেও তাঁর নাম উঠে এসেছে।

জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) ২০২৬ সালের জুনে পহেলগাঁও হামলার মামলায় একটি সম্পূরক চার্জশিট জমা দেয়। সেই চার্জশিটে পাকিস্তান-ভিত্তিক LeT/TRF প্রধান হাফিজ সঈদকে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। NIA-র সরকারি বিবৃতিতে তাঁকে এই মামলায় ৮ নম্বর অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করার কথা জানানো হয়।

এই প্রেক্ষাপটেই রাষ্ট্রসঙ্ঘের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কাছে সঈদকে নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়।

পরপর দুই প্রশ্ন, দু’বারই নীরব শরিফ

শাহবাজ শরিফের নিউ ইয়র্ক সফরের সময় দুই দফায় প্রশ্ন তোলার ভিডিও প্রকাশ করেছে ANI। প্রথমবার সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। দ্বিতীয়বার সরাসরি হাফিজ সঈদের বিচার নিয়ে জানতে চাওয়া হয়।

দুই ক্ষেত্রেই শরিফ থামেননি এবং কোনও বক্তব্য দেননি। সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত ভিডিও ও প্রতিবেদনে এই ঘটনাটি দেখা যাচ্ছে।

তবে শরিফের নীরবতার কারণ সম্পর্কে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কোনও ব্যাখ্যা এই ঘটনাকে ঘিরে প্রকাশ্যে আসেনি। তাই তাঁর নীরবতার নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে অনুমান না করাই যুক্তিযুক্ত।

রাষ্ট্রসঙ্ঘেই পাকিস্তানকে নিশানা ভারতের

শাহবাজ শরিফকে এই প্রশ্ন করার আগের দিনই রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদ এবং আঞ্চলিক নীতির জন্য আক্রমণ করে ভারত।

ভারতের কূটনীতিক ক্ষিতিজ ত্যাগী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে মদতের অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি পাকিস্তানকে নিজেদের অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ সমস্যার দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অন্য দেশের ভূখণ্ড নিয়ে আকাঙ্ক্ষা বা সন্ত্রাস রপ্তানি পাকিস্তানের আর্থিক সমস্যার সমাধান করতে পারবে না।

ভারতের বক্তব্যে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি এবং সেখানকার বিক্ষোভ দমন নিয়েও অভিযোগ তোলা হয়। পাকিস্তান অবশ্য ভারতীয় অভিযোগগুলির সঙ্গে একমত নয়।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফের হাফিজ সঈদ প্রসঙ্গ

হাফিজ সঈদকে নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক বিরোধ রয়েছে। ২৬/১১ মুম্বই হামলার সঙ্গে তাঁর যোগ থাকার অভিযোগ বহু বছর ধরেই ভারত তুলে আসছে। অন্যদিকে পাকিস্তানে সঈদের বিরুদ্ধে যে আইনি পদক্ষেপ হয়েছে, সেগুলি মূলত সন্ত্রাসে অর্থায়ন-সংক্রান্ত মামলাকে কেন্দ্র করে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৫ সালের পহেলগাঁও হামলার মামলায় NIA-র সম্পূরক চার্জশিটে তাঁর নাম যুক্ত হওয়ার পর বিষয়টি আরও একবার আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে। আর রাষ্ট্রসঙ্ঘের সদর দফতরের সামনে ভারতীয় সাংবাদিকের পরপর দুই প্রশ্নের জবাব না দেওয়ায় শুক্রবার নতুন করে খবরের শিরোনামে শাহবাজ শরিফ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন