করাচির ‘হোয়াইট হাউস’ ছেড়ে দাউদকে গোপন ডেরায়! নজরে আইএসআই

করাচির ক্লিফটনের পরিচিত ‘হোয়াইট হাউস’ থেকে দাউদ ইব্রাহিমকে পোর্ট এলাকার কাছে নিরাপদ আস্তানায় সরানো হয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

করাচির ক্লিফটনের পরিচিত ‘হোয়াইট হাউস’ থেকে সরিয়ে ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় থাকা দাউদ ইব্রাহিম কাসকরকে নতুন একটি নিরাপদ আস্তানায় রাখা হয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি। সূত্রের খবর, করাচি পোর্ট সংলগ্ন এলাকায় একটি সেফ হাউসে তাঁকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ক্লিফটনের পুরনো ঠিকানা থেকে নতুন জায়গাটির দূরত্ব আনুমানিক সাড়ে ছ’কিলোমিটার।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (ISI) এই স্থানান্তরের নেপথ্যে রয়েছে। তাদের মতে, দাউদকে পরিচিত ঠিকানা থেকে সরানোর পিছনে মূলত দু’টি বিষয় কাজ করছে। একদিকে তাঁর মাদক-নেটওয়ার্ককে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক নজরদারি থেকে তাঁকে আরও আড়ালে রাখা।

ভারত দীর্ঘদিন ধরেই দাউদ ইব্রাহিমের পাকিস্তানে থাকার অভিযোগ তুলে এসেছে। অন্যদিকে ইসলামাবাদ বরাবরই পাকিস্তানের মাটিতে দাউদের উপস্থিতির কথা অস্বীকার করেছে। এই অবস্থায় করাচির বহুল পরিচিত ঠিকানায় তাঁকে রাখা হলে আন্তর্জাতিক নজরদারি আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে গোয়েন্দা মহল।

সূত্রের দাবি, সেই কারণেই তুলনামূলকভাবে গোপন একটি জায়গায় তাঁকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। করাচি পোর্ট সংলগ্ন নতুন আস্তানা থেকে প্রয়োজন হলে দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়াও সহজ হবে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।

তবে দাউদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে যে দাবি করা হয়েছে, তার কোনও স্বাধীন নিশ্চিতকরণ নেই। গোয়েন্দা সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির কারণে তাঁকে খুব দূরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তাই পুরনো ঠিকানার কাছাকাছিই নতুন নিরাপদ জায়গা বেছে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি।

দাউদের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ থাকা মাদক-নেটওয়ার্ক নিয়েও গোয়েন্দা মহলে নজর রয়েছে। সূত্রের দাবি, এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আসা অর্থ জঙ্গি সংগঠনগুলির কাছে পৌঁছনোর অভিযোগ রয়েছে। লস্কর-ই-তৈবা এবং জইশ-ই-মহম্মদের মতো সংগঠনের সঙ্গে এই আর্থিক যোগসূত্রের কথাও গোয়েন্দা সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

তবে এই দাবিগুলি সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে উঠে এসেছে। কোনও নির্দিষ্ট আর্থিক লেনদেন বা বর্তমান নেটওয়ার্কের কার্যকলাপের স্বাধীন প্রমাণ এই তথ্যের মধ্যে দেওয়া হয়নি।

সূত্রের দাবি, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর দাউদের নেটওয়ার্কও ধাক্কা খেয়েছে। বিশেষ করে ২৪ এপ্রিল সেলিম ডোলা গ্রেফতার হওয়ার পর ভারতে ডি-কোম্পানির মাদক-চক্রের উপর বড় প্রভাব পড়েছে বলে গোয়েন্দা মহলের দাবি।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর থেকেই দাউদের নিরাপত্তা নিয়ে ISI-এর উদ্বেগ বেড়েছে। পাকিস্তানের মাটিতে একের পর এক অজ্ঞাতপরিচয় হামলায় জঙ্গি কমান্ডারদের মৃত্যুর ঘটনাও সেই আশঙ্কা বাড়িয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে দাউদকে এমন জায়গায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে, যেখান থেকে প্রয়োজনে দ্রুত তাঁকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া যায়—এমনটাই দাবি সূত্রের।

এর সঙ্গে আরও একটি কৌশলগত বিষয় জড়িয়ে রয়েছে বলে গোয়েন্দাদের বক্তব্য। দাউদ যদি পাকিস্তানের মাটিতে কোনও হামলায় নিহত হন, তা হলে পাকিস্তানে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক নতুন মাত্রা পেতে পারে। সেই সম্ভাবনাও ISI-এর চিন্তার কারণ বলে দাবি করা হয়েছে।

দাউদকে ঘিরে আর একটি বিষয় নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে—তাঁর পর ডি-কোম্পানির নেতৃত্ব কার হাতে যাবে?সূত্রের দাবি, দাউদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছোটা শাকিল ইতিমধ্যেই নিজেকে পরবর্তী নেতৃত্বের দাবিদার হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা শুরু করেছেন। অন্যদিকে দাউদের পরিবারের পছন্দ তাঁর ভাই আনিস ইব্রাহিম।

দাউদের ভাই আনিস ইব্রাহিম, ছোটা শাকিল এবং হাজি সালিমের মতো ব্যক্তিরা এখনও ডি-কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত বলে গোয়েন্দা সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তবে সংগঠনের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কোনও স্বাধীন নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।

এই পরিস্থিতিতে করাচির পরিচিত ঠিকানা থেকে দাউদকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি ঘিরে নতুন করে নজরে এসেছে পাকিস্তানে তাঁর অবস্থান এবং ডি-কোম্পানির ভবিষ্যৎ কার্যকলাপ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন