নজরবন্দি ব্যুরো: সকালের ব্রেকফাস্টে বাঙালির অতি পরিচিত পাউরুটিতেও এবার মূল্যবৃদ্ধির আঁচ। ওয়েস্ট বেঙ্গল বেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের দাবি অনুযায়ী, ১৭ অগস্ট থেকে ৪০০ গ্রাম অর্থাৎ এক পাউন্ড পাউরুটির দাম ৪ টাকা বাড়িয়ে ৩৬ টাকা করা হতে পারে। কাঁচামাল, জ্বালানি ও প্যাকেজিংয়ের খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে বেকারি শিল্পের সংগঠন।
বেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের হিসাব অনুযায়ী, গত এক মাসে বেকারি শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কাঁচামালের দাম উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। এক কুইন্টাল ময়দার দাম প্রায় ৬০০ টাকা বেড়েছে বলে দাবি তাদের। চিনির দাম কুইন্টাল প্রতি প্রায় ১০০০ টাকা এবং ভোজ্য তেলের দাম প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলেও সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে।
এর সঙ্গে নতুন করে চাপ তৈরি করেছে প্যাকেজিং সামগ্রীর দাম। বেকারি সংস্থাগুলির দাবি, প্যাকেট, মোড়ক-সহ বিভিন্ন প্যাকেজিং উপকরণের খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ফলে উৎপাদন খরচ একদিকে যেমন বাড়ছে, অন্যদিকে বাজারে আগের দামে পাউরুটি বিক্রি করে লাভ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে ৪০০ গ্রাম পাউরুটির দাম ৩২ টাকা থেকে বেড়ে ৩৬ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৭ অগস্ট থেকে সাধারণ বাজারে এই নতুন দাম কার্যকর হতে পারে। তবে বিভিন্ন ব্র্যান্ড বা বেকারির ক্ষেত্রে খুচরো বাজারদর আলাদা হতে পারে।
দাম বাড়লে শুধু বড় প্যাকেটেই নয়, ছোট মাপের পাউরুটিতেও তার প্রভাব পড়বে। ২০০ গ্রাম অর্থাৎ হাফ পাউন্ড পাউরুটির দাম ২ টাকা বেড়ে ১৮ টাকা হতে পারে। ১০০ গ্রাম প্লেইন পাউরুটির দামও প্রায় ১.৫০ টাকা বেড়ে ১০ টাকা করার কথা জানানো হয়েছে।
বেকারি শিল্পের দাবি, এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কোনও বাড়তি লাভের উদ্দেশ্যে নয়, বরং উৎপাদন খরচ সামলানোর জন্য প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, গত কয়েক মাস ধরে জ্বালানি এবং কাঁচামালের দামের চাপ সামলাতে গিয়ে বহু বেকারি সংস্থা আর্থিক সমস্যার মুখে পড়েছে।
বেকারি মালিকদের একাংশের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ছোট ও মাঝারি সংস্থাগুলির পক্ষে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠবে। তাঁদের দাবি, উৎপাদন খরচের সঙ্গে বাজারদর সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে লোকসান বাড়বে এবং কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতিতেও পৌঁছতে পারে।
পাউরুটির দাম বৃদ্ধির ইতিহাসেও দেখা যায়, কাঁচামালের খরচ বাড়লে এই নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ে বারবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ৪০০ গ্রাম পাউরুটিতে ৪ টাকা বৃদ্ধির নজির আগেও রয়েছে। ২০২২ সালেও একই মাপের পাউরুটির দাম ৪ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ওয়েস্ট বেঙ্গল বেকার্স অ্যাসোসিয়েশন।
তবে এবারের সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচে পড়বে বলেই আশঙ্কা। বিশেষ করে শহর ও শহরতলির বহু পরিবারে পাউরুটি প্রতিদিনের ব্রেকফাস্টের অন্যতম প্রধান খাবার। ফলে এক প্যাকেটে ৪ টাকা বৃদ্ধি খুব বড় অঙ্ক না হলেও নিয়মিত ক্রেতাদের মাসিক বাজার খরচে তার প্রভাব পড়বে।
অন্যদিকে, বেকারি শিল্পের বক্তব্যও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ময়দা, চিনি, তেল, জ্বালানি, শ্রম এবং প্যাকেজিং—সব মিলিয়ে উৎপাদন ব্যয়ের একাধিক স্তরে চাপ তৈরি হলে আগের দাম ধরে রাখা ব্যবসায়ীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। প্রশ্ন হল, সেই অতিরিক্ত খরচের কতটা ভোক্তার উপর চাপানো যুক্তিসঙ্গত এবং বাজারে সব সংস্থাই একই হারে দাম বাড়াবে কি না।
এখন নজর ১৭ অগস্টের দিকে। ওয়েস্ট বেঙ্গল বেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রস্তাব কার্যকর হলে ৩২ টাকার ৪০০ গ্রাম পাউরুটি পৌঁছে যাবে ৩৬ টাকায়। অর্থাৎ সকালের নাস্তায় নিয়মিত থাকা এই পণ্যটির জন্যও মধ্যবিত্তের পকেট থেকে এবার একটু বেশি টাকা বেরোতে চলেছে।



