ফুটবল মাঠে সময়টা এমনিতেই কঠিন যাচ্ছিল লিওনেল মেসির (Lionel Messi)। তার উপর ব্যক্তিগত জীবনে নেমে এল বড় শোক। ৮ অগস্ট ৬৮ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন তাঁর বাবা হোর্হে মেসি (Jorge Messi)। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর আর্জেন্তিনার রোসারিওর একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে মৃত্যু হয় তাঁর। বাবার মৃত্যুর পর আপাতত ফুটবল থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেসি বলে একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। ইন্টার মায়ামিও তাঁকে অনির্দিষ্টকালের ছুটি দিয়েছে বলে খবর।
বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরই আমেরিকা থেকে আর্জেন্তিনায় ফিরে যান মেসি। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতেই আপাতত তাঁর মূল লক্ষ্য। ইন্টার মায়ামির তরফেও তাঁর ফেরার জন্য কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি বলে সাম্প্রতিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে কবে আবার ক্লাবের জার্সিতে মাঠে নামবেন আর্জেন্তাইন মহাতারকা, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
হোর্হে মেসি শুধু লিওর বাবা ছিলেন না, তাঁর ফুটবলজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানুষও ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই ছেলের কেরিয়ার গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তী সময়ে লিওনেল মেসির এজেন্ট হিসেবেও দীর্ঘদিন কাজ করেছেন হোর্হে। ফলে বাবার মৃত্যু যে মেসির কাছে কতটা বড় ধাক্কা, তা সহজেই অনুমেয়।
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর হোর্হে মেসির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছিল। ৮ অগস্ট রোসারিওর একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে তাঁর মৃত্যু হয়। শেষ সময়ে স্ত্রী সেলিয়া এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তাঁর পাশে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। হোর্হের শেষকৃত্য রোসারিওর কাছে পেরেজ শহরের এল প্রাদো প্রাইভেট সেমেট্রিতে সম্পন্ন হয়েছে।
বাবাকে শেষ বিদায় জানাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সেখানেই ছিলেন মেসি। তাঁর সঙ্গে স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো (Antonela Roccuzzo) এবং সন্তানরাও ছিলেন বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উঠে এসেছে। মেসির পরিবারের ঘনিষ্ঠতা এবং হোর্হের দীর্ঘদিনের ভূমিকার কারণে এই শোকের সময়ে তিনি আপাতত পরিবারের সঙ্গেই থাকতে চাইছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে মেসির ক্লাব ইন্টার মায়ামি (Inter Miami CF)-ও তাঁর পরিস্থিতির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ক্লাব তাঁকে অনির্দিষ্টকালের ছুটি দিয়েছে। অর্থাৎ এখনই তাঁর ফেরার কোনও নির্দিষ্ট দিন নেই। ফলে লিগস কাপের বাকি ম্যাচগুলিতে তাঁর খেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এবং পরবর্তী MLS ম্যাচগুলিতেও তাঁকে না পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মেসির এই বিরতির খবর সামনে আসার পর স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে এটিকে অবসরের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার কোনও কারণ নেই। আপাতত বিষয়টি ব্যক্তিগত শোক কাটিয়ে ওঠার জন্য ফুটবল থেকে সাময়িক দূরে থাকার সিদ্ধান্ত বলেই রিপোর্টগুলিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মেসির সঙ্গে হোর্হের সম্পর্ক বরাবরই ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ছেলের ফুটবল প্রতিভা চিহ্নিত করা থেকে শুরু করে পেশাদার কেরিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পাশে থাকা—প্রায় প্রতিটি পর্যায়েই হোর্হে ছিলেন তাঁর অন্যতম প্রধান ভরসা। তাই এই কঠিন সময়ে ফুটবল নয়, পরিবারকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন মেসি।
এখন তাঁর ফেরার অপেক্ষায় ইন্টার মায়ামি এবং গোটা ফুটবল বিশ্ব। তবে এই মুহূর্তে সময়সীমার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মেসির ব্যক্তিগত শোক সামলানো। বাবাকে হারানোর ধাক্কা কাটিয়ে কবে আবার মাঠে ফিরবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতাই আপাতত তাঁকে দেওয়া হয়েছে বলে রিপোর্ট।



