নাসিরুদ্দিন শাহ (Naseeruddin Shah) এবং পীযূষ মিশ্রের (Piyush Mishra) মধ্যে চলা বাগ্যুদ্ধে এবার সরাসরি ঢুকে পড়লেন বিজেপি সাংসদ তথা অভিনেত্রী কঙ্গনা রনৌত (Kangana Ranaut)। পড়ুয়াদের আন্দোলনের সময়ে বলিউডের তারকাদের নীরবতা নিয়ে নাসিরুদ্দিনের মন্তব্যের সমালোচনা করেছিলেন পীযূষ। এবার তাঁর সেই বক্তব্যই সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে নাসিরুদ্দিনকে নিশানা করলেন কঙ্গনা। ‘দেশের খাবার খান, অন্য দেশের হয়ে লড়াই করেন’—এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে বলিউডের রাজনৈতিক বিতর্ক।
বিতর্কের সূত্রপাত নাসিরুদ্দিনের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। ছাত্র আন্দোলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বলিউডের পরিচিত মুখদের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত ছিল, তারকারা নিজেদের বিবেকের তাড়নায় যখন প্রয়োজন মনে করবেন, তখনই মুখ খুলবেন।
এই প্রসঙ্গেই বলিউডের একাংশকে কটাক্ষ করতে গিয়ে নাসিরুদ্দিন বলেছিলেন, মুখে হাড় থাকলে কুকুর যেমন ঘেউ ঘেউ করতে পারে না, তেমনই অনেক তারকা নিজেদের স্বার্থের কারণে প্রতিবাদ থেকে দূরে থাকেন। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই শুরু হয় বিতর্ক।
নাসিরুদ্দিনের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন অভিনেতা ও গায়ক পীযূষ মিশ্র। শুধু তাঁর মন্তব্যের বিরোধিতা করাই নয়, ‘প্রতিবাদী’ হিসেবে পরিচিত নাসিরুদ্দিন কেন ঝাড়খণ্ডের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন নিয়ে নীরব, সেই প্রশ্নও তোলেন পীযূষ।
এবার পীযূষের বক্তব্যকেই সমর্থন করলেন কঙ্গনা। সোশ্যাল মিডিয়ায় পীযূষ মিশ্রের করা পোস্ট পুনরায় শেয়ার করে নিজের বক্তব্য জানান বিজেপি সাংসদ। সেখানেই নাসিরুদ্দিনকে উদ্দেশ করে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানান তিনি।
কঙ্গনার বক্তব্য, প্রত্যেকেই কোনও না কোনও ভাবে কারও ‘পোষা’। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, তিনি সেই ‘বাড়ি’ অর্থাৎ দেশকে রক্ষা করতেই গর্ববোধ করেন, যে দেশের খাবার তিনি খান। এরপরই নাসিরুদ্দিনকে নিশানা করে কঙ্গনার অভিযোগ, তিনি দেশের খাবার খেলেও অন্য দেশের হয়ে লড়াই করেন।
নাসিরুদ্দিনের ‘কুকুর’ মন্তব্যকেও পাল্টা আক্রমণের হাতিয়ার করেছেন কঙ্গনা। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান সময়ে কুকুরের ডাকও প্রশংসনীয় হতে পারে, কারণ বিশ্বাসযোগ্যতা ও মিষ্টি স্বভাব দুটিই এখন বিরল। নাসিরুদ্দিনের মতো ‘শিয়াল’ হওয়ার চেয়ে তিনি কুকুর হওয়াকেই বেশি পছন্দ করবেন বলেও মন্তব্য করেন অভিনেত্রী।
কঙ্গনার এই বক্তব্যের পিছনে রয়েছে ঝাড়খণ্ডের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপট। কয়েক দিন ধরে রাঁচিতে পড়ুয়াদের আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা চলছে। সোমবার ঝাড়খণ্ড বিধানসভা অভিযানকে কেন্দ্র করে পড়ুয়াদের মিছিলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামানও ব্যবহার করা হয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার ঝাড়খণ্ড বন্ধের ডাক দেয় বিজেপি। একই সঙ্গে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC)-এর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের (Hemant Soren) পদত্যাগের দাবিও জানায় গেরুয়া শিবির।
ফলে নাসিরুদ্দিনের মন্তব্য ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন শুধুমাত্র বলিউডের অন্দরের বাকযুদ্ধের মধ্যে আটকে নেই। পীযূষ মিশ্রের পর কঙ্গনার প্রবেশে তা সরাসরি রাজনৈতিক বিতর্কের রূপ নিয়েছে। নাসিরুদ্দিনের মন্তব্যের পাল্টা জবাবে কঙ্গনার এই তীব্র আক্রমণের পর বিতর্ক আরও কতটা বাড়ে, এখন সেদিকেই নজর।



