হালিশহরের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) ঘিরে বিক্ষোভ। মঙ্গলবার শ্যামবাজারে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর (Subhas Chandra Bose) মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে ফেরার পথে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে ‘চোর’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় প্রচুর পুলিশ।
মঙ্গলবার ছিল বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর মৃত্যুদিন। তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে রাজ্য সরকারের তরফে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে ক্ষুদিরাম বসুর প্রতি শ্রদ্ধা এবং নেতাজিকে অপমানের প্রতিবাদে তৃণমূলের তরফেও কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই মঙ্গলবার বিকেলে শ্যামবাজারে নেতাজির মূর্তির পাদদেশে পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান তিনি। পরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপিকে নিশানা করেন মমতা। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অপমান করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এর পর মমতা সেখান থেকে ফিরে যাওয়ার সময় পরিস্থিতি আচমকাই বদলে যায়। অভিযোগ, সেখানে জড়ো হওয়া বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একাংশ তাঁর উদ্দেশে স্লোগান দিতে শুরু করেন। কয়েকজন রাস্তায় বসেও বিক্ষোভ দেখান। ‘চোর হ্যায়, চোর হ্যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চোর হ্যায়’—এই স্লোগান ওঠে বলে দাবি করা হয়েছে।
বিক্ষোভের জেরে শ্যামবাজার চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, তার জন্য দ্রুত এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশকর্মীরা বিক্ষোভকারীদের সরানোর চেষ্টা করেন এবং মমতার যাতায়াতের পথ নিরাপদ রাখার ব্যবস্থা করা হয়।
বিজেপির বিক্ষোভকারীদের অবশ্য বক্তব্য, নেতাজি বা বিপ্লবীদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের কর্মসূচিতে তাঁরা কোনও বাধা দেননি। তাঁদের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শ্রদ্ধা জানিয়ে ফেরার সময়ই তাঁরা রাজনৈতিক প্রতিবাদ করেছেন। এক বিজেপি কর্মীর কথায়, “বিপ্লবীদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে আমরা বাধা দিইনি। ফেরার সময় চোরকে চোর বলেছি, এতে অসুবিধার কী আছে?”
শ্যামবাজারের এই ঘটনার সঙ্গে রবিবারের হালিশহরের ঘটনারও মিল খুঁজে পাচ্ছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। হালিশহরে মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে মমতার গাড়ির দিকে জল-কাদা ছোড়ার অভিযোগ উঠেছিল। একই সঙ্গে তাঁর উদ্দেশে ‘চোর’ স্লোগানও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।
মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে ফের একই ধরনের স্লোগান ও বিক্ষোভের ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ল। একদিকে বিজেপির তরফে মমতার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জারি রয়েছে, অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে এ ধরনের আচরণ বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতির পক্ষে অস্বস্তিকর।
শ্যামবাজারে পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। হালিশহরের পর কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একই ধরনের প্রতিবাদ সামনে আসায় আগামী দিনে এই ইস্যুতে তৃণমূল-বিজেপি সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।



