শালবনিতে সরকারি জমি সংক্রান্ত প্রতারণার মামলা এবং ডেবরার চাকরি দুর্নীতি মামলায় ফের সিআইডির (CID) জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। মঙ্গলবার দীর্ঘক্ষণ ভবানী ভবনে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারী সংস্থা। বয়ানও রেকর্ড করা হয়েছে। বুধবার ফের ডেবরা থানার মামলায় তাঁকে তলব করা হয়েছে।
সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ ঘিরে গত কয়েক দিন ধরেই তৎপরতা বেড়েছে সিআইডির। শালবনির সরকারি জমি সংক্রান্ত মামলার পাশাপাশি ডেবরায় চাকরি সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তও চলছে। দুই মামলায় প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি যাচাই করতে তাঁকে বার বার জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
মঙ্গলবারের হাজিরার পর বুধবারও সুমিতকে ভবানী ভবনে ডাকা হয়েছে। অর্থাৎ, পরপর ১০ দিন সিআইডির দফতরে হাজিরা দিতে হয়েছে তাঁকে। তদন্তের স্বার্থে তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য জানতে চাওয়া হচ্ছে এবং আগের জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে নতুন তথ্যের সামঞ্জস্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই মামলায় সুমিত রায়ের হাজিরা নিয়ে আইনি দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) তাঁকে গ্রেপ্তারির ক্ষেত্রে রক্ষাকবচ দিয়েছিল। তবে একই সঙ্গে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছিল, তদন্তে তাঁকে সহযোগিতা করতে হবে। সেই নির্দেশের পর থেকেই নিয়মিত সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়ছেন তিনি।
শালবনির সরকারি জমি সংক্রান্ত মামলায় কীভাবে অভিযোগের সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়েছে, কার কার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট নথি বা লেনদেনের বিষয়ে সুমিতের ভূমিকা কী—এমন একাধিক বিষয় তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে বলে সূত্রের খবর। একই ভাবে ডেবরার চাকরি দুর্নীতি মামলাতেও তাঁর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
মঙ্গলবারের জিজ্ঞাসাবাদ কতক্ষণ চলেছে এবং সেখানে ঠিক কী কী প্রশ্ন করা হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থার তরফে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বুধবার ফের তাঁকে তলব করায় তদন্তের গতি নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
এখন নজর বুধবারের জিজ্ঞাসাবাদের দিকে। টানা হাজিরার মধ্যে সিআইডি নতুন কোনও তথ্য বা নথি সামনে আনে কি না, কিংবা সুমিত রায়ের বয়ানে কোনও অসঙ্গতি খুঁজে পাওয়া যায় কি না, সেটাই তদন্তের পরবর্তী গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।



