নিউমার্কেট হোটেল অগ্নিকাণ্ডে ৯ মৃত্যু, অগ্নিমিত্রার নিশানায় তৃণমূল-CESC, তদন্তে SIT

নিউমার্কেটের হোটেল অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর পর একই বহুতলে একাধিক হোটেল, বিপুল এসি এবং ট্রেড লাইসেন্সের অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে; তদন্তে বিশেষ SIT গঠন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নিউমার্কেট হোটেল অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর পর কলকাতার পুরনো বাণিজ্যিক এলাকার হোটেলগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ও অনুমোদন ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সরাসরি নিশানা করেন আগের তৃণমূল সরকারের সময়কার পুরসভা ব্যবস্থাকে। একইসঙ্গে CESC-র অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করা হয়েছে।

মধ্যরাতে নিউমার্কেট এলাকার একটি বহুতলে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভবনের ভিতরে একাধিক হোটেল চলত বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। ঘুপচি ও ছোট ছোট ঘরের পাশাপাশি ভবনে প্রচুর এসি চলত বলেও জানা গিয়েছে। আগুন লাগার পর দ্রুত ধোঁয়ায় ভরে যায় বিভিন্ন অংশ। শেষ পর্যন্ত এই ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনার পর বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এবং দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর ভবনের ভিতরে এতগুলি হোটেল কীভাবে চলছিল, তা নিয়েই বিস্ময় প্রকাশ করেন অগ্নিমিত্রা।

মন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, একই বহুতলের মধ্যে একাধিক হোটেল চালানোর অনুমতি কীভাবে দেওয়া হয়েছিল? এতগুলি ঘরে এসি চললেও বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে CESC-র তরফে কী ধরনের যাচাই করা হয়েছিল, সেই প্রশ্নও ওঠে। পাশাপাশি কলকাতা পুরসভা কীভাবে ট্রেড লাইসেন্স অনুমোদন করেছিল, তা নিয়েও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

অগ্নিমিত্রার অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)-এর আমলে পুরসভা ও প্রশাসনিক অনুমোদনের প্রক্রিয়া। তাঁর প্রশ্ন, ওই হোটেলগুলির জন্য দমকলের প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কি না এবং দেওয়া হয়ে থাকলে নিয়মকানুন যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না।

তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও নির্দিষ্ট সংস্থা বা ব্যক্তিকে এই অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ী করা হয়নি। CESC, কলকাতা পুরসভা এবং দমকলের অনুমোদন সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখলেই কোথায় গাফিলতি ছিল, তা স্পষ্ট হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরীও হোটেল পরিচালনার অনুমতি এবং ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, কীভাবে ওই ভবনে হোটেল চালানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা হবে। ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ কমিটির মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।

অগ্নিমিত্রা জানিয়েছেন, কলকাতা পুরসভার আওতাধীন হোটেলগুলির নিরাপত্তা ও অনুমোদন ব্যবস্থা অডিট করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে পুরনো ও ঘিঞ্জি এলাকার হোটেলগুলিতে অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম কতটা মানা হচ্ছে, জরুরি বহির্গমনের ব্যবস্থা রয়েছে কি না এবং বৈদ্যুতিক পরিকাঠামো নিরাপদ কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।

এদিকে নিউমার্কেট অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত ইতিমধ্যেই শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশের তরফে সুয়োমুটো মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ডেপুটি কমিশনার, ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।

তদন্তকারীরা শুধু আগুন লাগার কারণই নয়, ভবনটির অনুমোদন থেকে শুরু করে হোটেলগুলির বৈধতা পর্যন্ত প্রতিটি বিষয় খতিয়ে দেখছেন। দমকলের তরফেও অভিযোগ জানানো হয়েছে। ভবনের মালিক এবং হোটেল পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে বিপুল সংখ্যক ছোট ঘর, একাধিক হোটেল এবং প্রচুর বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ভিনরাজ্য ও বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় আসা বহু মানুষ এই এলাকার হোটেলগুলিতে থাকতেন বলেও প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। ফলে নিরাপত্তার ঘাটতি থাকলে তার ঝুঁকি কতটা বড় হতে পারে, নিউমার্কেটের মর্মান্তিক ঘটনাই তার ভয়াবহ উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

এখন নজর তদন্তকারী দলের রিপোর্টের দিকে। ট্রেড লাইসেন্স, দমকলের ছাড়পত্র, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং ভবনের ব্যবহার—প্রতিটি ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। ৯টি প্রাণহানির এই ঘটনায় শেষ পর্যন্ত গাফিলতি কোথায় এবং কার, SIT-এর তদন্তেই তার উত্তর মিলবে বলে আশা করছে প্রশাসন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন