রাজ্যের সাম্প্রতিক একাধিক বিতর্কিত ঘটনা নিয়ে ফের সরব বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। আরজিকর কাণ্ড থেকে শুরু করে ভোট পরবর্তী হিংসা, স্বপ্না বর্মনের বাড়িতে আগুন কিংবা প্রশাসনের ভূমিকা— একাধিক ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দুর্নীতি নিয়ে কড়া ভাষায় সমালোচনা করে দিলীপের দাবি, “সরকার বদলে গিয়েছে, সময়মতো সব বুঝিয়ে দেওয়া হবে।”
আরজিকরে অভয়ার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। কিন্তু যেভাবে সেটিকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে, তাতেই সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বেড়েছে। সেই কারণেই মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছেন।”


তৎকালীন পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তোলেন তিনি। তাঁর কটাক্ষ, “কিছু ওসিকে সবাই চেনে। তাঁরা কি এতটাই বিখ্যাত? কেন তাঁদের নিয়ে এত আলোচনা?” একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের কিছু আধিকারিক সৎ কাজকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এর ফলে উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে বলেও দাবি করেন বিজেপি নেতা।
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের পর রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গ টেনে দিলীপ বলেন, “তখন যদি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হত, এত মানুষ ঘরছাড়া হতেন না। শাসকদলের নেতারাও বিধানসভায় দাঁড়িয়ে ঘরছাড়ার কথা স্বীকার করেছেন।” তিনি আরও জানান, তাঁর করা একাধিক মামলার তদন্ত এখনও চলছে এবং সিবিআই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
রাজগঞ্জে তৃণমূল প্রার্থী তথা অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মনের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ড নিয়েও মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, “অসৎ সঙ্গের ফলেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। উনি একজন অ্যাথলিট, তাই আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।”


দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়ে বিজেপি নেতা বলেন, “আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি। যেমন কৃষ্ণ পুতনাবধ করেছিলেন, তেমনভাবেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখনও অনেক কিছু বাকি রয়েছে।”
রাজাবাজারের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে বিরোধীদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। দিলীপের মন্তব্য, “ওরা ভুলে গিয়েছে যে এখন সরকার বদলে গিয়েছে। সময় এলে সব বুঝিয়ে দেওয়া হবে।”
স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন বিজেপি নেতা। তাঁর দাবি, SSKM Hospital-এ রোগী ও তাঁদের আত্মীয়দের জন্য আলাদা বেডের ব্যবস্থা করা হবে। এর ফলে হাসপাতালের ভিতরে কে রোগী এবং কে আত্মীয়, তা সহজে চিহ্নিত করা যাবে বলে মত তাঁর।
সবশেষে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “যেখানে যেখানে ঘুণ ধরেছে, সেখানে ওষুধ দেওয়া হবে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।







