বেহাল বাস পরিষেবায় ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই, মুখ্যমন্ত্রীর দিকেই তাকিয়ে বাসমালিকরা

ডিজেলের দাম বৃদ্ধি, দীর্ঘদিন ভাড়া না বাড়া ও কমে যাওয়া বাস রুট— সংকটে বেসরকারি পরিবহণ ব্যবস্থা। মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইছেন বাসমালিকরা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ডিজেলের লাগামছাড়া দাম, দীর্ঘদিন ভাড়া না বাড়া, একের পর এক রুটে বাস কমে যাওয়া— সব মিলিয়ে রাজ্যের বেসরকারি গণপরিবহণ ব্যবস্থা কার্যত ধুঁকছে। এই পরিস্থিতিতে ভেঙে পড়া পরিবহণ ব্যবস্থাকে বাঁচাতে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইছেন বাসমালিকরা। শুক্রবার বৈঠকে বসে ‘অল বেঙ্গল বাস-মিনিবাস সমন্বয় সমিতি’র সদস্যরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শুধু ভাড়া বৃদ্ধি নয়, গোটা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার ছাড়া আর কোনও পথ খোলা নেই।

শুক্রবারই ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ৩ টাকা ১১ পয়সা বেড়ে হয়েছে ৯৫ টাকা ১৩ পয়সা। অথচ বহু বছর ধরে বেসরকারি বাসের ভাড়া কার্যত অপরিবর্তিত। ফলে পরিবহণ ব্যবসায় টিকে থাকাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাসমালিকদের কাছে।

সমিতির দাবি, ২০২০ সালের অগস্টে শহরে ডিজেলের দাম ছিল প্রতি লিটার ৭৭ টাকা ৬ পয়সা। গত ছ’বছরে সেই দাম বেড়েছে ১৮ টাকারও বেশি। এর জেরে প্রতিটি বাসের দৈনিক জ্বালানি খরচ প্রায় হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় আয় না বাড়ায় একের পর এক রুটে বাস কমে যাচ্ছে।

বাসমালিকদের অভিযোগ, আগের রাজ্য সরকারের কাছে বহুবার আবেদন জানানো হলেও সরকারি ভাবে ভাড়া পুনর্বিন্যাস করা হয়নি। এর ফলেই শুধু কলকাতাতেই অন্তত ৪০টি রুটে বাসের সংখ্যা অর্ধেকেরও কমে গিয়েছে। কয়েক ডজন রুট পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলেও দাবি তাঁদের। অনেক পরিবহণ ব্যবসায়ী ইতিমধ্যেই এই ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন।

এই অবস্থায় পরিবহণ ব্যবসায়ীদের মনোবল ফেরানোই এখন সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছে সমন্বয় সমিতি। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ না হলে আরও অনেক বাস রাস্তায় নামা বন্ধ করে দেবে।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় বলেন, “রাজ্যে যাত্রী পরিবহণ পরিষেবা দীর্ঘদিন ধরে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাবে খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে। আমরা শুধুমাত্র ভাড়া বৃদ্ধির দাবি করছি না। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে গোটা ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরব।”

আগামী সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। সেখানে বাস পরিষেবার সংকটের পাশাপাশি অটোরিকশা ও টোটোর অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি কীভাবে বাস পরিষেবাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, সেই বিষয়টিও তুলে ধরা হবে।

সমিতির তরফে আরও দাবি করা হয়েছে, ওডিশার আদলে হাইওয়েতে মাসিক এক হাজার টাকার পাস চালু করা হোক। পাশাপাশি শহর ও শহরতলির প্রধান সড়ক, রাজ্য সড়ক এবং জাতীয় সড়ক দখলমুক্ত করার আবেদনও জানানো হবে।

পরিবহণ মহলের মতে, রাজ্যের গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে বাঁচাতে এবার নীতিগত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া আর কোনও বিকল্প নেই।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত