রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর একের পর এক পুরনো মামলার ফাইল খুলতেই চাপ বাড়ছে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের উপর। কোথাও পুলিশি ধরপাকড়, কোথাও আবার ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ— গোটা পরিস্থিতি ঘিরে জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিভিন্ন জেলায়। কোচবিহারে কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়ির সামনে গ্রামবাসীদের ধর্না যেমন নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে, তেমনই প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহর সম্ভাব্য গ্রেপ্তারি নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তীব্র হয়েছে।
গত অগস্টে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার ঘটনায় নতুন করে সক্রিয় হয়েছে পুলিশি তদন্ত। শুক্রবার এই মামলায় তৃণমূলের ব্লক সভাপতি শুভঙ্কর দে-সহ চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই মামলার ৪১ জন অভিযুক্তের তালিকায় রয়েছেন উদয়ন গুহ এবং জেলা তৃণমূল সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক, যিনি ‘হিপ্পি’ নামেও পরিচিত।


৪ মে ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই উদয়ন গুহকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। একাধিক সূত্রের দাবি, ফল ঘোষণার রাতেই তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান। গত প্রায় দশ দিন তাঁর কোনও খোঁজ না মেলায় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে— সম্ভাব্য গ্রেপ্তারির আশঙ্কাতেই কি গা-ঢাকা দিয়েছেন প্রবীণ তৃণমূল নেতা? যদিও সূত্রের খবর, শুক্রবার কলকাতায় একটি দলীয় বৈঠকে তাঁকে দেখা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৫ অগস্ট কোচবিহারের খাগড়াবাড়ি চৌপথিতে শুভেন্দুর কনভয়ে হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। ভাঙচুর করা হয় তাঁর গাড়িও। সেই সময় শুভেন্দু অভিযোগ করেছিলেন, তাঁকে খুনের উদ্দেশ্যেই হামলা চালানো হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে কয়েক জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও বড় নেতাদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ হয়নি বলে বিরোধীদের অভিযোগ ছিল। প্রায় ন’মাস পর তদন্তে নতুন গতি আসতেই উদয়ন গুহকে ঘিরে চাপ বাড়ছে।
এদিকে শুধু রাজনৈতিক হিংসার মামলা নয়, পুরনো কাটমানি অভিযোগও ফের সামনে আসতে শুরু করেছে। শুক্রবার কোচবিহার-১ ব্লকের পানিশালা গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য মজিবর রহমানের বাড়ির সামনে কয়েকশো গ্রামবাসী বিক্ষোভ দেখান। অভিযোগ, আবাস যোজনার সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কাটমানি নিয়েছেন তিনি।


ধাইয়ের হাট গ্রামে মজিবরের বাড়ির সামনে দিনভর চলে ধর্না। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কাটমানির টাকাতেই তিনি বিলাসবহুল বাড়ি তৈরি করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা অলক দাস ও গীতা দাস দাবি করেন, “সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার পরে টাকা নেওয়া হয়েছিল। এতদিন ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখা হয়েছিল।”
পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় মোতায়েন করা হয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। যদিও অভিযুক্ত মজিবর রহমান বর্তমানে পলাতক বলে দাবি স্থানীয়দের। তাঁর বাবা ছটু মিয়াঁ বলেন, “ছেলে কী করেছে, সে বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। আমি এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে পারব না।”
রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর তৃণমূলের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে পুরনো অভিযোগে তদন্ত ও জনরোষ— দুইয়ের চাপই যে দ্রুত বাড়ছে, এই ঘটনাগুলি সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।







