দীর্ঘ আন্দোলনের পর চাকরি প্রার্থীদের নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছিল স্কুল সার্ভিস কমিশন। পরে দেখা যায় নিয়ম মেনেও সেই দুর্নীতি হয়নি। সোমবার তা নিয়ে কড়া সমালোচনা করলেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। তাঁর মন্তব্য, আন্দোলন করলেই কী চাকরি পাওয়া যায়? প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে মন্তব্য, চাকরি কারোর পৈতৃক সম্পত্তি নয়।
দিল্লি যদি মডেল স্কুল করে দেখাতে পারে পশ্চিমবঙ্গ কেন নয়? প্রয়োজনে অর্থ জোগাড় করতে হবে। পড়ুয়া না থাকলে শিক্ষক পুষে নেই। তুলে দেওয়া হোক পড়ুয়াহীন স্কুল। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু বলেন, পড়ুয়া অত্যন্ত কম থাকলে স্কুলের অনুমোদন প্রত্যাহার করে নিন। যেখানে শিক্ষক নেই অথচ পড়ুয়া রয়েছে, সেখানে শিক্ষকদের পাঠান। স্কুলের বদলি নিয়ে কড়া নির্দেশ দিলেন বিচারপতি।
চাকরি নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হতেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ৬১৮ জন চাকরি প্রার্থীরা। বুধবার এসএসসির ত্যরফে তাঁদের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, চাকরি যাওয়া গ্রুপ ডি কর্মীদের বক্তব্য, এতদিন ধরে তাঁরা পরিশ্রম দিয়েছেন, তাই টাকা ফেরত দিতে রাজি নয় তাঁরা।
শুক্রবারেই গ্রুপ ডি পদে ১৯১১ জনের নিয়োগের সুপারিশ বাতিল হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অযোগ্যদের চাকরি বাতিল এবং বেতন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। সেই জায়গায় এবার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এবং যোগ্য চাকরি প্রার্থীদের নিয়োগের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। তিন সপ্তাহের মধ্যে আড়াই হাজার পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিতে দেখা গেছে কলকাতা হাইকোর্টকে। বেআইনিভাবে যাদের নিয়োগ হয়েছে, দ্রুত তাঁদের চাকরি বাতিল করে নতুন করে নিয়োগের জন্য নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। সেই কাজে আরও এক ধাপ এগিয়ে এবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। যার ফলে এখন প্রায় ৯৩৭ জনের চাকরি নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।
নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে লাগাতার রাজ্যের শাসক দলকে কাঠগোড়ায় তুলে চলেছেন বিরোধী পক্ষের নেতারা। এমনকি তৃণমূলকে ‘চোরেদের দল’ বলে কটাক্ষ করছেন বাম-বিজেপি-কংগ্রেস সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি। এরই মধ্যে সোমবার নাম না করে শুভেন্দুকে খোঁচা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। শিক্ষক নিয়োগে পুরুলিয়ার কোটাই কেটে দিয়েছিল। অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর।
নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে এক অভিনেত্রীর। এবার সেই অভিনেত্রীকে দেখতে চাইলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এমনকি তাঁর অভিনীত সিনেমাও দেখতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে অভিনেত্রীর নাম জানিয়ে ইডিকে আদালতে হলফনামা জমা দিতে বলেন বিচারপতি।