কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পরেই শহিদ মিনার চত্বরে শর্তসাপেক্ষে তৃণমূলের ছাত্র ও যুবদের মিছিলও হতে চলেছে। যেকারণে রয়েছে বিরাট নিরাপত্তার ব্যবস্থা। কোনভাবেই ডিএ আন্দোলনকারীদের মঞ্চে কোনও আপত্তিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য বদ্ধপরিকর কলকাতা পুলিশ। তাই আদালতের শর্ত মেনেই সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে সভাস্থলে। অতীতকে ফিরিয়ে আনতে ডার্ক চকোলেট এবং ফলের রস খেয়ে ধর্না দেবেন ডিএ আন্দোলনকারীরা।
প্রায় ৬০ দিন ধরে একটানা শহীদ মিনারের পাদদেশে ধর্না ও অনশন কর্মসূচি জারি রেখেছে সরকারি কর্মচারিদের সংগঠন, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। বুধবার সেখানেই সভার কথা রয়েছে তৃণমূলের ছাত্র যুবর। সভার মূল বক্তা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সেই সভার বিরোধিতা করে মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন ডিএ আন্দোলনকারীদের একাংশ। শহিদ মিনার চত্বরেই কেন অভিষেকের সভা? প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
কেন্দ্রীয় হারে বেতনের দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলন মঞ্চে সকালেই উপস্থিত হন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। সকাল থেকেই অনশন মঞ্চে ছিলেন তিনি। এরপর বেলা গড়াতেই ঘটে গেল বিপত্তি। বিধায়ক নওশাদের গায়ে হাত তোলার অভিযোগ উঠল এক অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তি বিরুদ্ধে। ডিএ আন্দোলন মঞ্চে নওশাদের ওপর হামলা করল কে? তা এখনও জানা যায়নি।
শনিবার তাঁদের সঙ্গে এক দিনের জন্য অনশনে বসলেন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। শনিবার সকাল ৬ টা থেকে ধর্না মঞ্চে উপস্থিত হয়ে ধর্না শুরু করেছেন তিনি। এদিন তিনি অনশনে বসার আগে তাঁর শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। ডিএ ধর্না মঞ্চে উপস্থিত নওশাদ সিদ্দিকিকে ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজাও।
এই ট্যাক্সটা তুলে নিয়ে যাই কেন্দ্র। আমাদের ক্ষতি হচ্ছে। তাঁর আরও বক্তব্য, আমরা ১ তারিখে মাইনে দিই। পেনশনটাও দিই। যে সরকার এত মানবিক, সেই সরকারকে নিয়ে ভাববেন না।
ধর্মঘটের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে নবান্ন। এদিন চারবার হাজিরার খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে। এরই মধ্যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তাঁর কথায়, শ্বশুরবাড়ির লোকেরা দেখে বলছেন, দেখো জামাইকে দেখা যাচ্ছে। সেই জন্য ভিড় হচ্ছে। ধর্মঘট বিফলে বলে দাবি করেন মন্ত্রী।
বাজেটের দিন ৩ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেছে সরকার। কিন্তু ষষ্ঠ বেতন কমিশন অনুযায়ী এখনও বাকি ৩২ শতাংশ। কেন্দ্রের সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে বিস্তর ফারাকের প্রতিবাদে শুক্রবার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে রাজ্যের সরকারি ও সরকার পোষিত কর্মচারীদের ৪২ টি সংগঠনের মিলিত সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। আন্দোলন উপেক্ষা করে ধর্মঘটে কারা? খতিয়ে দেখবেন মুখ্যমন্ত্রী।