পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক উত্থান—মাত্র তিন বিধায়ক থেকে দুশোর বেশি আসনে ক্ষমতা দখল—এই পরিবর্তনের কাহিনিই বেঙ্গালুরুর মঞ্চ থেকে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসন জিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বাংলার এই পালাবদলকে তিনি ‘জনশক্তির জয়’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
রবিবার বেঙ্গালুরুর একাধিক কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী একের পর এক রাজ্যে বিজেপি ও এনডিএ-র সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। সেই প্রেক্ষিতেই উঠে আসে পশ্চিমবঙ্গের প্রসঙ্গ। মোদীর কথায়, “এক সময় যেখানে আমাদের হাতে ছিল মাত্র তিনটি আসন, আজ সেখানে ২০০-র বেশি বিধায়ক নিয়ে সরকার গড়েছে বিজেপি।” তাঁর মতে, এই পরিবর্তন শুধু রাজনৈতিক নয়, মানুষের বিশ্বাসের প্রতিফলন।



এর আগের দিনই ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বাংলার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের শাসন পরিবর্তন করে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনা সহজ কাজ ছিল না, কিন্তু বাংলার মানুষ তা সম্ভব করেছেন।
নির্বাচনের আগে বিজেপির লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট—বাংলার ক্ষমতা দখল। সেই লক্ষ্য পূরণে প্রধানমন্ত্রী নিজে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্ব একাধিক জনসভা করেছেন। প্রতিশ্রুতি ছিল ‘অপশাসন’ থেকে মুক্তি এবং নতুন উন্নয়নের পথ। ফলাফল ঘোষণার পর দেখা যায়, বিজেপি পেয়েছে ২০৭টি আসন, আর তৃণমূল কংগ্রেস সীমাবদ্ধ হয়েছে ৮০-তে।
বেঙ্গালুরুর সভা থেকে মোদী কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা ও পুদুচেরিতেও বিজেপি-এনডিএ জোটের শক্তি বৃদ্ধির উদাহরণ টানেন। তাঁর বক্তব্য, “যেখানে একসময় দল দুর্বল ছিল, সেখানেও আজ বিজেপি শক্তিশালী অবস্থানে।” তেলঙ্গানায় বিজেপি এখন দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি বলেও দাবি করেন তিনি।


এছাড়া তামিলনাড়ুর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা নিয়েও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। ফল ঘোষণার পর সরকার গঠন নিয়ে যে টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা উল্লেখ করে তিনি বিরোধীদের কটাক্ষ করেন। কেরল নিয়েও কংগ্রেসকে আক্রমণ করতে ছাড়েননি মোদী।







