কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে ঘিরে জমি কেলেঙ্কারি মামলায় তদন্ত আরও গভীরে নিয়ে গেল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। জাল নথি তৈরি করে জমি দখল এবং সেই জমিতে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে গত ৫ মে তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস জারি করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। একাধিকবার তলব করা হলেও তদন্তকারীদের সামনে হাজির হননি তিনি। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে চাপ আরও বাড়তে শুরু করে।
ইডি সূত্রে খবর, দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জের ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’-কে ঘিরে তদন্ত চালাতে গিয়েই উঠে আসে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের নাম। সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে জমি দখল, তোলাবাজি এবং বেআইনি নির্মাণচক্র চালানোর অভিযোগ রয়েছে। কয়েক কোটি টাকার এই জমি কেলেঙ্কারির তদন্তে গত এপ্রিল মাসে শান্তনুর ফার্ন রোডের বাড়িতে হানা দিয়েছিল ইডি। সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া একাধিক নথি খতিয়ে দেখেই তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্রের সঙ্গে কলকাতা পুলিশের ওই শীর্ষ আধিকারিকের যোগসূত্র রয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে জমি দখল এবং পরে সেই জমিতে অবৈধ নির্মাণের পুরো প্রক্রিয়ায় প্রভাবশালী মহলের আশ্রয় ছিল। বাজেয়াপ্ত নথি ও আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে শান্তনুর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, সরকারি পদমর্যাদা ব্যবহার করে কোনও বেআইনি সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল কি না।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে দীর্ঘদিন ধরেই অবাধ যাতায়াত ছিল শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের। কালীঘাট থানার ওসি হিসেবে কাজ করার পর তাঁকে তৃণমূল নেত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বেও রাখা হয়েছিল। ফলে এই তদন্ত রাজনৈতিকভাবেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, শান্তনুকে বারবার তলব করা হলেও তিনি তদন্তে সহযোগিতা করেননি। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস জারি করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, আর্থিক লেনদেন, সম্পত্তির নথি এবং কিছু ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ হাতে এসেছে, যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশ এবং রাজ্যের প্রশাসনিক মহলেও ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর প্রশাসনিক স্তরে দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে একের পর এক পদক্ষেপ নতুন রাজনৈতিক বার্তাও দিচ্ছে।



