গরবা-ডান্ডিয়ায় মুসলিমদের প্রবেশ নিষেধ? মহারাষ্ট্রে ভিএইচপির গাইডলাইন ঘিরে বিতর্ক

নবরাত্রির আগে মহারাষ্ট্রে গরবা-ডান্ডিয়া উৎসবে মুসলিমদের প্রবেশ নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। ভিএইচপির নির্দেশ ঘিরে বিরোধীদের সমালোচনা, সরকারের অবস্থান নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মহারাষ্ট্রে আসন্ন নবরাত্রির গরবা-ডান্ডিয়া উৎসবকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মুসলিমদের এই অনুষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার দাবি তুলেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP)। আয়োজকদের কাছে পাঠানো নির্দেশিকায় পরিচয়পত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের কপালে তিলক থাকা বাধ্যতামূলক করার দাবিও জানানো হয়েছে। এই অবস্থানকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে বিরোধীরা।

আগামী ১১ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে নবরাত্রি। তার আগেই মহারাষ্ট্রে গরবা-ডান্ডিয়া অনুষ্ঠানের আয়োজকদের উদ্দেশে একাধিক নির্দেশ দিয়েছে ভিএইচপি। সংগঠনের দাবি, অনুষ্ঠানে প্রবেশের আগে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করা হোক এবং প্রত্যেকের কপালে তিলক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হোক।

ভিএইচপির মুখপাত্র তথা যুগ্মসচিব শ্রীরাজ নায়ারের বক্তব্য, এই অবস্থান কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বিরোধিতা করার জন্য নয়। তাঁদের দাবি, নবরাত্রির ধর্মীয় তাৎপর্য এবং হিন্দু ঐতিহ্য-সংস্কৃতিকে সুরক্ষিত রাখাই মূল উদ্দেশ্য।

নায়ারের কথায়, নবরাত্রি শুধুমাত্র নাচ-গানের উৎসব নয়। এটি হিন্দু দেবীর আরাধনার সঙ্গে যুক্ত ধর্মীয় অনুষ্ঠান। মূর্তিপূজায় যাঁদের বিশ্বাস নেই, তাঁদের এই ধরনের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

ভিএইচপির এই দাবির পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) সাংসদ সঞ্জয় রাউত (Sanjay Raut) আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের (Mohan Bhagwat) সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন।

কিছু দিন আগে নিউ ইয়র্কে ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা দিতে গিয়ে ভাগবত বলেছিলেন, কোনও হিন্দু যদি মনে করেন ভারতে মুসলিমদের থাকা উচিত নয়, তা হলে তিনি প্রকৃত অর্থে হিন্দু নন। তাঁর বক্তব্য ছিল, হিন্দু পরিচয়ের সঙ্গে সব পথের গন্তব্য এক—এই বিশ্বাসও জড়িত। ভিএইচপির দাবির বিষয়ে আরএসএসের তরফে অবশ্য কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

কংগ্রেসও ভিএইচপির এই নির্দেশিকার সমালোচনা করেছে। কংগ্রেস বিধায়ক আমিন পটেল (Amin Patel) এই দাবিকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য, উৎসবের মূল উদ্দেশ্যই হল মানুষের মধ্যে আনন্দ ও সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি করা। সেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে অংশগ্রহণ থেকে দূরে রাখার প্রশ্ন ওঠে না।

এনসিপির তরফেও ভিএইচপির অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিরোধীদের আশঙ্কা, এই ধরনের নির্দেশ ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হতে পারে এবং সামাজিক সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে মহারাষ্ট্রের বিজেপি সরকারের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলি।

তাদের প্রশ্ন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার কী অবস্থান নেবে? কোনও ধর্মীয় সংগঠনের এই ধরনের নির্দেশকে প্রশাসন মান্যতা দেবে কি না, তা নিয়েও স্পষ্ট অবস্থান চাওয়া হয়েছে।

মহারাষ্ট্রের সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারপার্সন পেয়ারে খানও জানিয়েছেন, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে কোনও উৎসবে অংশ নেওয়া থেকে আটকানো যায় না। তাঁর বক্তব্য, অনেক জায়গাতেই গরবা-ডান্ডিয়া অনুষ্ঠানে মুসলিমদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

কমিশনের মতে, কোনও অনুষ্ঠানে প্রবেশের ক্ষেত্রে আয়োজকদের নির্ধারিত আমন্ত্রণ বা অংশগ্রহণের নিয়মই চূড়ান্ত হওয়া উচিত। ধর্মীয় পরিচয় দেখে কাউকে নিষিদ্ধ করার দাবি ঘিরে তাই মহারাষ্ট্রে নবরাত্রির আগেই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন