সোমবার সকালেই তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হক (Nadimul Haque)-এর একাধিক ঠিকানায় হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate)। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কলকাতা, দিল্লি ও রাঁচির মোট আটটি জায়গায় তল্লাশি চলছে বলে সূত্রের খবর। এর মধ্যে কলকাতায় সাংসদের সংবাদপত্রের দফতর এবং দিল্লিতে তাঁর অফিস ও বাংলোও রয়েছে। ইডির অভিযোগ, সংবাদপত্রের দফতরকে সামনে রেখে বেআইনি আর্থিক লেনদেন হয়েছে এবং সেই লেনদেনের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের অর্থও যুক্ত থাকতে পারে।
কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকার ১২, দরগা রোডে রয়েছে ‘আকবর-ই-মশরিক প্রাইভেট লিমিটেড’-এর দফতর। উর্দু সংবাদপত্রটির মালিক নাদিমুল হক। সোমবার সকালে দফতরটি তালাবন্ধ থাকা অবস্থাতেই সেখানে পৌঁছন ইডির আধিকারিকরা। সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। পরে অফিসে ঢুকে বিভিন্ন নথি ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কাগজপত্র খতিয়ে দেখা হয়।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওই সংবাদপত্রের দফতর থেকেই বেআইনি আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকতে পারে। সেই লেনদেনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের অর্থও রয়েছে কি না, সেটিই তদন্তের অন্যতম বিষয় বলে জানা যাচ্ছে। কোন ব্যক্তি বা সংস্থার সঙ্গে টাকা লেনদেন হয়েছিল, সেই অর্থের উৎস কী এবং তার পক্ষে বৈধ নথি রয়েছে কি না—তল্লাশিতে মূলত এই বিষয়গুলিই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সূত্রের দাবি, এই আর্থিক লেনদেন নিয়ে গত মাসে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সেই অভিযোগের সূত্র ধরেই তদন্ত এগিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে ঠিক কী ধরনের মামলা বা তদন্তের সূত্র তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
কলকাতার পাশাপাশি দিল্লিতেও তল্লাশি অভিযান চলছে। ৬১, সাউথ অ্যাভিনিউয়ে নাদিমুল হকের একটি অফিস রয়েছে। ওই দফতরটি তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস হিসেবেও ব্যবহৃত হয় বলে জানা গিয়েছে। দিল্লিতে তৃণমূলের বিভিন্ন সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কাজকর্মের সঙ্গে এই অফিসের যোগাযোগ রয়েছে।
সেই অফিসের পাশাপাশি দিল্লিতে সাংসদের বাংলোতেও ইডির আধিকারিকরা পৌঁছেছেন। রাঁচিতেও একটি ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। সব মিলিয়ে কলকাতায় তিনটি, দিল্লিতে চারটি এবং রাঁচিতে একটি ঠিকানায় এদিনের অভিযান চলছে।
তদন্তকারীদের সন্দেহ, নাদিমুল হকের দফতরগুলির মাধ্যমে কিছু আর্থিক লেনদেন এমনভাবে করা হয়ে থাকতে পারে, যার প্রকৃত উৎস বা সুবিধাভোগীকে আড়াল করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই নথি, আর্থিক হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা।
তবে এখনও পর্যন্ত এই তল্লাশি থেকে কোনও গ্রেফতার বা বাজেয়াপ্ত অর্থের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। একইসঙ্গে নাদিমুল হক বা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফেও এদিনের ইডি অভিযানের বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলির সত্যতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোও সম্ভব নয়।



