এসএসসি (SSC) নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নতুন করে বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate)। গ্রুপ C ও গ্রুপ D-র চাকরিতে টাকা লেনদেনের অভিযোগের পাশাপাশি নির্দিষ্ট ‘রেট চার্ট’-এর কথাও উঠে এসেছে ইডির সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, গ্রুপ C-র চাকরির জন্য ১৫-১৬ লক্ষ এবং গ্রুপ D-র জন্য ১০-১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল।
ইডি জানিয়েছে, এই মামলায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee), অর্পিতা মুখোপাধ্যায় (Arpita Mukherjee), কুন্তল ঘোষ (Kuntal Ghosh) এবং প্রসন্ন কুমার রায়ের নাম রয়েছে। ২০ অগস্ট কলকাতার বিশেষ পিএমএলএ (PMLA) আদালতে এই সাপ্লিমেন্টারি প্রসিকিউশন কমপ্লেন্ট জমা করা হয়। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এই মামলায় প্রথম চার্জশিট জমা দিয়েছিল ইডি।
চার্জশিটে ইডির দাবি, বিভিন্ন পদের জন্য প্রার্থীদের কাছ থেকে ১০ থেকে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হয়েছিল। নির্দিষ্ট ভাবে গ্রুপ C-র ক্ষেত্রে ১৫-১৬ লক্ষ এবং গ্রুপ D-র ক্ষেত্রে ১০-১২ লক্ষ টাকা নেওয়ার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। অর্থাৎ, চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে পদ অনুযায়ী আলাদা ‘রেট’ নির্ধারিত ছিল বলে অভিযোগ।
শুধু টাকা নেওয়ার অভিযোগেই থেমে থাকেনি তদন্ত। ইডির দাবি, অযোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগের পথ তৈরি করতে পরীক্ষার ওএমআর (OMR) শিটের ফলাফল বদলানো, র্যাঙ্ক ‘জাম্প’ করানো এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্যতার তালিকায় না থাকা প্রার্থীদেরও নিয়োগের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল।
ইডির অভিযোগ অনুযায়ী, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাতে স্কুলশিক্ষা দফতর এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির উপর ব্যাপক প্রভাব ছিল। সেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেআইনি নিয়োগে প্রভাব খাটানো এবং প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে চার্জশিটে থাকা অভিযোগগুলি এখনও আদালতে বিচারাধীন এবং সেগুলি প্রমাণিত হয়েছে এমন নয়।
তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, এই নিয়োগ দুর্নীতির মাধ্যমে তৈরি অপরাধলব্ধ অর্থের পরিমাণ অন্তত ৬৩০.৪০ কোটি টাকা। ইডির বক্তব্য, র্যাঙ্ক জাম্পিংয়ের পাশাপাশি প্যানেলের বাইরে নিয়োগ, প্যানেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিয়োগ এবং আরটিআই বা পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় কারচুপির মতো একাধিক পদ্ধতিতে অনিয়ম হয়েছিল বলে অভিযোগ।
এই মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায় দীর্ঘ সময় জেল হেফাজতে ছিলেন এবং বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ও জামিনে মুক্ত। নতুন সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে তাঁদের নাম ফের সামনে আসায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলার পরবর্তী আইনি গতিপ্রকৃতির দিকে এখন নজর রয়েছে।



