দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে মাঝরাতে ঘুমন্ত দম্পতির ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল পাঁচ দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, প্রথমে মহিলার স্বামীকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেয় অভিযুক্তরা। এরপর ঘরের মধ্যে একা পেয়ে ওই মহিলাকে ধর্ষণ করা হয়। শুক্রবার রাতের এই ঘটনার পর শনিবার সোনারপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতা। অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে সোনারপুর থানা এলাকার একটি বস্তিতে জামাইবাবুর ভাড়া বাড়িতে ছিলেন ওই দম্পতি। রাতের শেষ ট্রেনে বাড়ি ফেরেন মহিলার স্বামী। সেই সময় জামাইবাবু ও তাঁর স্ত্রী অন্য বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন। খাওয়াদাওয়া সেরে ওই ভাড়া ঘরেই স্বামীর সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েন মাঝবয়সি মহিলা।
অভিযোগ, গভীর রাতে আচমকাই পাঁচজন ঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিছানা থেকে মহিলার স্বামীকে টেনে নামিয়ে মারধর শুরু করে তারা। স্ত্রী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও লাভ হয়নি। এরপর মারতে মারতে তাঁকে ঘরের বাইরে বের করে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
নির্যাতিতার অভিযোগ, স্বামীকে সরিয়ে দেওয়ার পর ঘরের মধ্যে তাঁকে একা পেয়ে পাঁচজন মিলে ধর্ষণ করে। চিৎকার করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। আতঙ্কে সেই সময় কোনওরকম প্রতিরোধ করতে পারেননি তিনি। দুষ্কৃতীদের ভয়ে প্রতিবেশীরাও প্রথমে কিছু জানতে পারেননি বলে অভিযোগ।
ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ওই দম্পতি। শনিবার সোনারপুর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মহিলা। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি অভিযুক্তদের সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। নির্যাতিতার শারীরিক পরীক্ষাও করানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অতীতে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে একজন সম্প্রতি জেল থেকে ছাড়া পেয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের। ঘটনার আগের দিন অন্য একটি পাড়ায় এক ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। তবে এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
ঘটনার পর ওই এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট বস্তি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কারবার ও মাদক সেবনের সমস্যা রয়েছে। কমবয়সিদের একাংশও এই ধরনের কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ছে বলে দাবি তাঁদের। যদিও অভিযুক্তদের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাইছেন না।
অন্যদিকে, ঘটনার পর নিরাপত্তার অভাবে আতঙ্কিত নির্যাতিতা ক্যানিংয়ে মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে। বারুইপুরের সাম্প্রতিক ঘটনার পর সোনারপুরে ফের এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার নারী নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।



