কালীপুজোয় বারাসতের বিখ্যাত মণ্ডপগুলি দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন? তাহলে রাস্তায় বেরোনোর আগে পুলিশের নতুন নির্দেশিকা জেনে নেওয়া জরুরি। আগামী ৭ নভেম্বর থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন সাধারণ মানুষের জন্য খুলে থাকবে বারাসতের কালীপুজোর মণ্ডপ। পাইওনিয়ার, কলোনি মোড়, কেএনসি রেজিমেন্ট-সহ একাধিক বড় পুজোকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই উত্তর ২৪ পরগনার এই শহরে দর্শনার্থীদের বিপুল ভিড় হয়। সেই ভিড় সামাল দিতে এবার বিশেষ যান নিয়ন্ত্রণ, পার্কিং এবং নিরাপত্তার পরিকল্পনা করেছে জেলা পুলিশ। কোন রাস্তা দিয়ে যেতে হবে, কোথায় গাড়ি রাখা যাবে, বাসের রুটই বা কীভাবে বদলাচ্ছে? দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে প্রকাশ্যে এল বিস্তারিত নির্দেশিকা।
শুক্রবার বারাসত রবীন্দ্রভবনে জেলা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত সমন্বয় বৈঠকে কালীপুজোর পাঁচ দিনের নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার জে মার্সি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দুর্বার বন্দ্যোপাধ্যায়, বারাসতের এসডিপিও শুভাঙ্গী সুদর্শন কেকান-সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, এবার বারাসতে ১৯টি এবং মধ্যমগ্রামে ১০টি বড় বাজেটের কালীপুজো হচ্ছে। তালিকায় রয়েছে আমডাঙার মা করুণাময়ী কালীমন্দিরও। বড় পুজোগুলির প্রতিটির জন্য একজন করে নোডাল অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। কলোনি মোড়ে তৈরি করা হবে বিশেষ কন্ট্রোল রুম। সেখান থেকেই পাঁচ দিন ধরে গোটা পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালানো হবে।
বারাসতে কোন রাস্তা দিয়ে যেতে হবে?
দর্শনার্থীদের ভিড়ের কারণে যানজট এড়াতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার যাত্রাপথে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
কলকাতা থেকে দেগঙ্গার দিকে যাওয়া গাড়িগুলিকে মধ্যমগ্রাম চৌমাথা থেকে বাদু রোড ধরতে হবে। অন্যদিকে, ডাকবাংলো মোড় থেকে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং চাঁপাডালি মোড় থেকে টাকি রোডে চারচাকা গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকবে।
জাতীয় সড়কে বাইক চলাচলের অনুমতি থাকলেও তা ১১ নম্বর রেলগেট পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে। ফলে বাইক নিয়ে সরাসরি পুজোমণ্ডপের কাছে পৌঁছনো যাবে না।
তবে দর্শনার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তির খবর রয়েছে। যশোর রোডে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
কোথায় থাকবে বাইক ও গাড়ির পার্কিং?
টাকি রোড ধরে আসা দর্শনার্থীদের বাইক রাখার জন্য বিশেষ পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পূর্ব বারাসত স্কুল সংলগ্ন ফাঁকা জায়গা এবং বামনমুড়ো মাঠে বাইক পার্ক করা যাবে। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে পুজোমণ্ডপে পৌঁছতে হবে।
ভিড়ের মধ্যে রাস্তার পাশে বা নিষিদ্ধ এলাকায় গাড়ি দাঁড় করালে যান চলাচলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট পার্কিং জোন ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বদলাচ্ছে বাসের রুট, কোথা থেকে মিলবে পরিষেবা?
কালীপুজোর পাঁচ দিন বাস চলাচলেও একাধিক পরিবর্তন থাকছে। তিতুমীর বাসস্ট্যান্ডের পরিবর্তে বারাকপুরগামী বাস ছাড়বে আরিফবাড়ি থেকে।
জাগুলিয়াগামী বাসের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে আড়দেবক মোড়। অন্যদিকে, কলকাতাগামী বাস পাওয়া যাবে রথতলা থেকে। পাশাপাশি গেঞ্জিমিল এবং বামনমুড়ো থেকেও বাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকছে।
শুধু বাসের রুট নয়, ভারী যানবাহন চলাচলেও বিধিনিষেধ জারি করা হচ্ছে। প্রতিদিন দুপুর ২টো থেকে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। ফলে পণ্যবাহী গাড়ির চালকদেরও বিকল্প সময় ও রাস্তার পরিকল্পনা করে নিতে হবে।
মণ্ডপে প্রবেশ ও নিরাপত্তায় কী কী নিয়ম?
বারাসতের বড় কালীপুজোগুলিতে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মণ্ডপ নির্মাণের ক্ষেত্রেও একাধিক নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। প্রতিটি মণ্ডপে প্রবেশ এবং বেরোনোর জন্য আলাদা রাস্তা রাখতে হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত চওড়া বহির্গমন পথ এবং আপৎকালীন গেটের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ওভারহেড গেটের পরিবর্তে এল-প্যাটার্নের গেট তৈরির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে পুজো উদ্যোক্তাদের। এর ফলে ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দর্শনার্থীদের বের করে আনা তুলনামূলক সহজ হবে।
মণ্ডপে মাইকে এমন কোনও ঘোষণা করা যাবে না, যাতে দর্শনার্থীদের মধ্যে অকারণে আতঙ্ক ছড়ায়। কোনও জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রয়োজনীয় ঘোষণা করবে পুলিশই।
স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য রেসিডেন্ট পাস
পাঁচ দিন ধরে যান নিয়ন্ত্রণ ও রাস্তা পরিবর্তনের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতে দৈনন্দিন যাতায়াতে অসুবিধা না হয়, সেদিকেও নজর রাখছে প্রশাসন। তাঁদের সুবিধার জন্য বিশেষ রেসিডেন্ট পাসের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
সব মিলিয়ে ৭ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত বারাসতের কালীপুজোকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তা ও যান নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা পুলিশ। তাই মণ্ডপ দর্শনে বেরোনোর আগে নিজের যাত্রাপথ, পার্কিংয়ের জায়গা এবং বাসের বিকল্প রুট সম্পর্কে জেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।



