দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি সংক্রান্ত আর্থিক দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার হয়ে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা সংগীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen)। এবার তাঁকে নিয়ে মুখ খুললেন প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সন্তান সুচেতন ভট্টাচার্য (Suchetan Bhattacharya)। একসময় ইন্দ্রনীলের সংগীত সংস্থায় কাজ করতেন তিনি। সেই সময়কার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেছেন সুচেতন। তাঁর কথায়, ইন্দ্রনীলের ঔদ্ধত্য ছিল চরমে। বর্তমানে যা ঘটছে, তা তাঁর নিজের কৃতকর্মের ফল বলেই মনে করেন সুচেতন। এমনকী ইন্দ্রনীলের গ্রেফতারিতে তিনি খুশি বলেও জানিয়েছেন।
২০০৫ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইন্দ্রনীল সেনের সংগীত সংস্থায় কাজ করেছিলেন সুচেতন। কলেজের পড়াশোনা শেষ করার পরই সেখানে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। প্রায় আট বছর ওই সংস্থায় কাজ করার সুবাদে ইন্দ্রনীলের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ পেশাগত যোগাযোগ ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে বলে জানিয়েছেন সুচেতন।
সুচেতনের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ইন্দ্রনীলের রাজনৈতিক অবস্থান ও তৃণমূলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে শুরু করে। বিষয়টি তাঁর নজরে আসার পরই সংস্থার চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ২০১৩ সালে ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন সুচেতন।
তাঁর অভিযোগ, ইস্তফাপত্র গ্রহণ করার ক্ষেত্রেও অকারণে দীর্ঘসূত্রতা করেছিলেন ইন্দ্রনীল। সুচেতনের দাবি, ইস্তফাপত্রের প্রাপ্তিস্বীকারের কপি দেওয়ার কথা বলে তাঁকে অফিসে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও ইন্দ্রনীল নিজে তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি। অন্য কর্মীদের মারফত অপেক্ষা করতে বলা হচ্ছিল। এই ঘটনাকে নিজের কর্মজীবনের অত্যন্ত অপমানজনক অভিজ্ঞতা বলে বর্ণনা করেছেন সুচেতন।
শুধু চাকরি ছাড়ার ঘটনা নয়, ইন্দ্রনীলের সংস্থায় কর্মরত অন্যান্য সংগীতশিল্পী ও রেকর্ডিস্টদের পারিশ্রমিক নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন তিনি। সুচেতনের দাবি, অনেক সময় কাজ করিয়ে নেওয়ার পরেও সংশ্লিষ্ট শিল্পীদের প্রাপ্য টাকা দেওয়া হত না। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে কয়েকজন শিল্পীর পারিশ্রমিক নিজের পকেটের টাকা থেকে মেটাতে হয়েছিল তাঁকে।
এই অভিজ্ঞতার পর ইন্দ্রনীলের প্রতি তাঁর ক্ষোভ আরও বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন সুচেতন। তাঁর দাবি, পরিবারের সঙ্গে ইন্দ্রনীলের যোগাযোগ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছিলেন তিনি। এমনকী প্রয়াত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের অসুস্থতা কিংবা মৃত্যুর সময়েও ইন্দ্রনীল যাতে তাঁদের পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতে না আসেন, সেই মনোভাব দলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানিয়ে দিয়েছিলেন।
বর্তমানে পুজোর পাস বিক্রি সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ইন্দ্রনীল গ্রেফতার হওয়ার পর নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সুচেতন বলেন, তাঁর ঔদ্ধত্য ছিল চরমে। এখন তিনি নিজের পাপ ও কৃতকর্মের ফল ভোগ করছেন। এই ঘটনায় তিনি খুশি বলেও জানিয়েছেন সুচেতন।
উল্লেখ্য, দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং বিশেষ পাস বিক্রির নামে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগ, ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে পাস বিক্রির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। এই মামলায় কলকাতা হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর ২৮ অক্টোবর তাঁকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশের তদন্তকারী দল। ২৯ অক্টোবর আদালত তাঁকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়।



