‘আমি ডায়মন্ড হারবার যাব, কাঁথিতেও যাব’, শুভেন্দুর চ্যালেঞ্জের পাল্টা জবাব অভিষেকের

২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবারে অভিষেকের জামানত জব্দের চ্যালেঞ্জ শুভেন্দু অধিকারীর। পাল্টা জবাবে ডায়মন্ড হারবার ও কাঁথি যাওয়ার ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রীকে একাধিক ইস্যুতে আক্রমণ করলেন তৃণমূল সাংসদ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

শুভেন্দু অধিকারীর চ্যালেঞ্জের পাল্টা চ্যালেঞ্জ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। শুক্রবার ‘জনতার দরবার’ থেকে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তাঁর জামানত জব্দ হবে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই মন্তব্যের জবাব দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তিনি ডায়মন্ড হারবারেও যাবেন, কাঁথিতেও যাবেন। পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) তৃণমূলের পিছনে না লেগে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবারই রাজ্য পুলিশের একাংশকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ ছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের নেতা-কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। যে পুলিশ আধিকারিকেরা এই কাজে যুক্ত, তাঁদের নাম চিহ্নিত করে রাখা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। শুক্রবার ফের সেই প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক বলেন, “মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। গায়ের জ্বালা আসলে শুভেন্দু অধিকারীর।”

‘আমি ডায়মন্ড হারবার যাব, কাঁথিতেও যাব’

শুভেন্দুর চ্যালেঞ্জের জবাব দিতে গিয়ে অভিষেক বলেন, তাঁকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এত চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। তাঁর কথায়, “আমি ডায়মন্ড হারবার যাব। আমি কাঁথিতেও যাব। আমাকে নিয়ে ভাবতে হবে না।”

পুলিশি পদক্ষেপ নিয়েও সরব হন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, তাঁর অনুপস্থিতিতে আমতলায় তাঁর অফিস ভাঙা হয়েছে এবং গোটা ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, “আমি না থাকায় আপনি আমার আমতলা অফিস ভেঙেছেন। সব কিছু পুলিশ দিয়ে করা হচ্ছে।” পাশাপাশি, অনেকে আবার তৃণমূলে ফিরে আসার জন্য যোগাযোগ করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এরপর শুভেন্দুকে সরাসরি নিশানা করে অভিষেক বলেন, তৃণমূলের পিছনে না লেগে মুখ্যমন্ত্রীর উচিত রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়া। সাম্প্রতিক উৎসবের সময় পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, পুজোর সময়ে এমন ঘটনা আগে ঘটেনি।

মেয়েকে ধর্ষণের হুমকির অভিযোগ অভিষেকের

এদিন আরও গুরুতর অভিযোগ সামনে আনেন অভিষেক। তাঁর দাবি, তাঁর বাড়ির বাইরে গিয়ে তাঁর ১২ বছরের মেয়েকে উদ্দেশ্য করে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই সংক্রান্ত ভিডিও তাঁর কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তৃণমূল সাংসদ।

অভিষেকের বক্তব্য, “আমার কাছে ভিডিও আছে আমার বাড়ির বাইরে গিয়ে বলে এসেছে আমার বারো বছরের মেয়েকে উদ্দেশ্য করে, যে ধর্ষণ করে দেওয়া হবে।” তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় বা পুলিশের পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়নি।

বাঙালি-অবাঙালি সংস্কৃতি নিয়েও তোপ

এদিন বাঙালি ও অবাঙালি সংস্কৃতি নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, ছটপুজোর নাম করে কোথাও কোথাও কালীপুজো বন্ধ করার চেষ্টা হচ্ছে। পাল্টা কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “বাঙালিরা করবা চৌথ করছে। তাহলে অবাঙালিরা নীলষষ্ঠী করুক।”

উৎসব ও সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। তবে অভিষেক যে নির্দিষ্ট ঘটনা বা নির্দেশের কথা উল্লেখ করেছেন, তার বিস্তারিত তথ্য এই বক্তব্যে পাওয়া যায়নি।

‘আপনার ভয় কীসের?’ শুভেন্দুকে পাল্টা প্রশ্ন

তৃণমূলের প্রতীক, দলীয় সাংসদ-বিধায়কদের ভাঙন এবং দলের সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে শুভেন্দুর কটাক্ষের জবাবও দিয়েছেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের লোগো, প্রতীক ও অ্যাকাউন্ট নিয়ে নেওয়া হয়েছে, সাংসদ-বিধায়কদেরও ভাঙানো হয়েছে। তারপরেও বিজেপি নেতৃত্বের এত ভয় কেন, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।

অভিষেকের কথায়, “তৃণমূলের লোগো, সিম্বল, অ্যাকাউন্ট নিয়েছেন। এমপি-দের ভেঙেছেন, এমএলএ-দের ভেঙেছেন। তাও এত আপনার ভয় কীসের?”

এরপর বয়সের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দুকে কটাক্ষ করেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর দাবি, পাঁচ বছর পর শুভেন্দুর বয়স হবে ৬১, আর তাঁর নিজের বয়স হবে ৪৩। সময়ের সঙ্গে শুভেন্দুর রাজনৈতিক শক্তি কমবে এবং তাঁর নিজের শক্তি বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিন শুভেন্দুর দলবদলের সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। তাঁর দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় না থাকলে শুভেন্দু অধিকারী সবার আগে দল ছাড়তে পারেন। সেই প্রসঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রীকে প্রকাশ্যে হলফনামা দিয়ে আজীবন বিজেপিতে থাকার কথা ঘোষণা করার চ্যালেঞ্জ জানান তিনি।

সব মিলিয়ে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই শুভেন্দু ও অভিষেকের বাকযুদ্ধ তীব্র হচ্ছে। ডায়মন্ড হারবারে জামানত জব্দের চ্যালেঞ্জের পাল্টা কাঁথিতে যাওয়ার ঘোষণা—দুই নেতার এই মন্তব্যে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর