‘সাহস থাকলে ভোটে লড়ুন, আবার হারাব’, বারুইপুর থেকে মমতাকে চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর

বারুইপুরের জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের নির্বাচনে লড়ার চ্যালেঞ্জ শুভেন্দু অধিকারীর। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডায়মন্ড হারবারে হারানোর হুঁশিয়ারির পাশাপাশি তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়েও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নির্বাচনে লড়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তাঁর দাবি, ফের ভোটে দাঁড়ালে আবারও হারাবেন তাঁকে। শুধু মমতা নন, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি রাজ্যের গত ছয় মাসের কাজ এবং আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী।

বারুইপুরের সভায় শুভেন্দুর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে রাজনৈতিক পালাবদল ও সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফলের প্রসঙ্গ। তাঁর দাবি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মানুষ এখন বাক্‌স্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কটাক্ষ করতে গিয়ে এলাকায় আরশোলা, ছারপোকা ও মাকড়ের উৎপাতের কথাও বলেন তিনি। গণতান্ত্রিকভাবে এই ধরনের ‘উপদ্রব’ মোকাবিলার কথা বলে রাজনৈতিক ভাষায় আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী।

গত ছয় মাসের কাজ ও কলকাতা পুরসভা নির্বাচন

সভায় গত ছয় মাসে রাজ্য সরকার কী কী কাজ করেছে এবং আগামী দিনে কী পরিকল্পনা রয়েছে, তারও খতিয়ান তুলে ধরেন শুভেন্দু। নির্বাচনী ফলাফলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ফলতার পুনর্নির্বাচন এবং সাম্প্রতিক কয়েকটি নির্বাচনী লড়াইকে সামনে রেখেই তাঁরা পরীক্ষায় নেমেছিলেন। তাঁর দাবি, ফলতার পুনর্নির্বাচনে এক লক্ষ ভোটের ব্যবধানে জয় এসেছে। পাশাপাশি হাসিরানি রথ ১ লক্ষ ৪০ হাজারেরও বেশি ভোটে এবং রেজিনগরে বিজেপির প্রার্থী ৭০ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সামনেই কলকাতা পুরসভার নির্বাচন। সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় কর্মীদের এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, আগামী পুরভোটকে ঘিরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাশাপাশি কলকাতাতেও সংগঠন মজবুত করার পরিকল্পনা নিচ্ছে বিজেপি।

তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়েও কটাক্ষ

তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিভাজন নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি শুভেন্দু। তাঁর দাবি, একই দলের মধ্যে একাধিক গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। মমতা-পন্থী, ঋতব্রত-পন্থী এবং বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখা—এমন একাধিক শিবিরে তৃণমূল ভাগ হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দুই নেতাকে একসঙ্গে চা খেতে দেখার প্রসঙ্গ টেনেও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, নিজেদের ভাই-বোন বলে পরিচয় দিলেও রাজনৈতিক সমীকরণে তাঁদের অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তবে এই বিভাজন নিয়ে তৃণমূলের তরফে কী বক্তব্য, তা এই সভার বক্তব্যে উঠে আসেনি।

মমতাকে ফের নির্বাচনে লড়ার চ্যালেঞ্জ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করতে গিয়ে অতীতের নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টানেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরে তাঁর কাছে মমতার পরাজয়ের কথা উল্লেখ করে ফের ভোটে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি। বলেন, “দু’বার হারিয়েছি, ক্ষমতা-সাহস থাকলে ভোটে লড়ুন, আবার হারাব।”

এখানে উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন মমতা। পরে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও ভবানীপুরে শুভেন্দুর কাছে হারেন তিনি। এই দুই নির্বাচনী ফলের প্রসঙ্গই এদিনের সভায় তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

অভিষেককে ডায়মন্ড হারবারে লড়ার আহ্বান

শুধু মমতা নন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন শুভেন্দু। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে ওই কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে লড়ার আহ্বান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, অভিষেক আগেরবার যত ভোটে জিতেছিলেন, তার চেয়ে অন্তত একটি ভোট বেশি পেয়ে তাঁকে হারাবেন।

এমনকী, সিপিএমের ভোট অভিষেকের দিকে গেলেও তাঁকে হারিয়ে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন শুভেন্দু। ফলে বারুইপুরের সভা থেকে মমতা ও অভিষেক—দু’জনকেই আগামী নির্বাচনী লড়াইয়ের জন্য কার্যত প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর