‘বড় চোর জেলে যাবেই। চিন্তা করবেন না, ধৈর্য রাখুন।’ শুক্রবার বারুইপুরের সভা থেকে এমনই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। কারও নাম উল্লেখ না করেই তিনি প্রশ্ন তোলেন, বড় চোর কবে জেলে যাবেন, তা নিয়ে কি সভায় উপস্থিত মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে? এর পরেই নিজেই উত্তর দিয়ে বলেন, বড় চোর জেলে যাবেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই মন্তব্যের নিশানায় রয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। যদিও মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি কারও নাম করেননি।
সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের একাধিক নেতা গ্রেফতার হয়েছেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে মমতা-ঘনিষ্ঠ নেতাদেরও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। সম্প্রতি ইন্দ্রনীল সেন ও অজিত মাহাতোর গ্রেফতারির প্রসঙ্গও রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে এসেছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিচার এখনও আদালতের বিষয়। এই আবহেই বারুইপুরের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ‘বড় চোর’ মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
‘বড় চোর জেলে যাবেই’, কী বললেন শুভেন্দু?
সভায় উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে শুভেন্দু বলেন, “বড় চোর জেলে যাবেই, চিন্তা করবেন না। ধৈর্য রাখুন।” এরপর তিনি আরও বলেন, “আপনাদের মনে প্রশ্ন আছে বড় চোর কবে যাবে? বড় চোর যাবে। আমার রাজনীতিতে সহ্য, ধৈর্য ধরি।”
নাম না করে এই মন্তব্যের মাধ্যমে বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করেছেন বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে কাকে ‘বড় চোর’ বলতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি মুখ্যমন্ত্রী। ফলে তাঁর মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
এদিনের সভা থেকে সিপিএম ও তৃণমূলের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, একসময়ের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দুই দল এখন একসঙ্গে চলেছে। কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “বেবি আর আন্টি এখন একসঙ্গে চা খাচ্ছেন।”
এখানে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক এবং কয়েকটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তৃণমূল ও সিপিএমের একাংশের অবস্থানের মিল দেখা গিয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই দুই দলের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে কটাক্ষ করেন শুভেন্দু।
তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সাহস থাকলে আপনি লড়ুন। আবার হারাব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।” তাঁর আরও কটাক্ষ, “ওঁরা কলকাতায় না থেকে দিল্লি যাচ্ছেন। আপনি দিল্লি যান। পশ্চিমবঙ্গে আপনার আর কিছু হবে না।” হারের পর একটি দলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি।
এদিন নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আক্রমণ করেন শুভেন্দু। সাম্প্রতিক সময়ে অভিষেকের করা মন্তব্য এবং রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের উদ্দেশে তাঁর হুঁশিয়ারির প্রসঙ্গও রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও তীব্র করেছে।
অভিষেকের অভিযোগ, রাজ্যে গণতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে এবং ২০১৪ সালের পর থেকে সুষ্ঠুভাবে ভোট করতে দেওয়া হয়নি। সাত লক্ষ ভোটে জয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, সংশ্লিষ্ট সাংসদ ছ’মাস কোথায় ছিলেন? যদিও এই বক্তব্যের জবাবে শুভেন্দু এদিন নাম না করেই পাল্টা কটাক্ষ করেন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। পাশাপাশি, তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করার অভিযোগ তুলে পুলিশ আধিকারিকদেরও সতর্ক করেছেন তিনি। তার পাল্টা বারুইপুরের সভা থেকে শুভেন্দুর এই আক্রমণ রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল।



