‘আন্টি-বেবির মধ্যে ভাব হয়েছে’, রামলীলা ময়দানের সভার আগে মমতা-বাম জোটকে কটাক্ষ শুভেন্দুর

রামলীলা ময়দানে বিরোধীদের কর্মসূচির আগে গড়বেতার সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবিকে কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধীদের রাজনৈতিক কর্মসূচির আগে ফের বাম ও তৃণমূলকে একযোগে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার, ৩১ অক্টোবর পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতায় বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবিকে কটাক্ষ করেন তিনি। দুই নেতার রাজনৈতিক যোগাযোগকে ইঙ্গিত করে শুভেন্দুর মন্তব্য, “এখন আন্টি আর বেবির মধ্যে ভাব ভালোবাসা হয়ে গিয়েছে।” ‘আন্টি’ বলতে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বোঝাচ্ছেন, তা-ও স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও এম এ বেবির মধ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক যোগাযোগকে কেন্দ্র করেই শুভেন্দুর এই আক্রমণ। নির্বাচন কমিশন এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-সহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধী দলগুলির যৌথ অবস্থান ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনা চলছে। সেই প্রেক্ষাপটে দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধীদের কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূল ও বামেদের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

শুভেন্দুর বক্তব্য, যে তৃণমূল একসময় সিপিএমের বিরোধিতাকে সামনে রেখেই রাজনৈতিক লড়াই শুরু করেছিল, তারাই এখন বাম নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। এই রাজনৈতিক অবস্থানকে কটাক্ষ করেই ‘আন্টি-বেবি’র প্রসঙ্গ টানেন তিনি। তাঁর মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের সভা থেকেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লিতে গিয়ে রাজনীতি করার পরামর্শ দিয়েছিলেন শুভেন্দু। রামলীলা ময়দানে বিরোধীদের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, বাংলায় তৃণমূলনেত্রীর আর রাজনৈতিক জমি নেই। একই সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নির্বাচনে লড়ার চ্যালেঞ্জ জানান মুখ্যমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা তৈরি হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের বক্তব্য সেখানে উঠে আসতে পারে। এই কর্মসূচির আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বাম নেতৃত্বের রাজনৈতিক যোগাযোগকে হাতিয়ার করে আক্রমণ শানালেন শুভেন্দু।

তবে তৃণমূল ও বামেদের মধ্যে এই যোগাযোগের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে দুই শিবিরের অবস্থান আলাদা। বিরোধী দলগুলির বক্তব্য, নির্দিষ্ট কিছু জাতীয় ইস্যুতে যৌথভাবে সরব হওয়া রাজনৈতিক সমন্বয়ের অংশ। অন্যদিকে, শুভেন্দু সেই সমন্বয়কেই রাজনৈতিক কটাক্ষের বিষয় করেছেন। ফলে রামলীলা ময়দানের কর্মসূচির আগে বাংলার রাজনীতিতে তৃণমূল-বাম সমীকরণ ঘিরে বিতর্ক আরও একবার সামনে এল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর