গত ২৫ বছরের রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারে সরকারি চাকরি! মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবে ছাড়পত্র

গত ২৫ বছরের রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। বাম ও তৃণমূল আমলের ঘটনা বিবেচনায় রেখে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে আবেদন যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চালু হতে পারে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বড় পদক্ষেপের পরিকল্পনা রাজ্য সরকারের। গত ২৫ বছরে রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রস্তাবে রাজ্য মন্ত্রিসভা ছাড়পত্র দিয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। প্রস্তাবটি আইনি অনুমোদনও পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে শীঘ্রই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতে পারে।

সরকারি সূত্রের দাবি, এই প্রকল্পের আওতায় শুধু সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনা নয়, গত ২৫ বছরের রাজনৈতিক হিংসার ঘটনাগুলিকেই বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ, তৃণমূল সরকারের ১৫ বছরের পাশাপাশি তার আগের বাম আমলের ১০ বছরের ঘটনাও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। লোকসভা, বিধানসভা এবং ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় বা নির্বাচন-পরবর্তী হিংসায় যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের পরিবার এই সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবে বলে জানা যাচ্ছে।

নবান্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত ২৫ বছরের রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ফলে বাম আমল এবং তৃণমূল আমল—দুই সময়ের ঘটনাই বিবেচনায় আসবে। শুধু বিধানসভা নির্বাচন নয়, লোকসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘিরে হিংসার ঘটনায় নিহতদের পরিবারকেও অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক হিংসায় স্বজন হারানো পরিবারগুলির একজন সদস্য সরকারি চাকরির সুযোগ পেতে পারেন। তবে কোন কোন ঘটনা চূড়ান্তভাবে এই প্রকল্পের আওতায় আসবে, তা নির্ভর করবে প্রশাসনিক যাচাই ও নির্দিষ্ট নিয়মের উপর।

কীভাবে আবেদন করতে হবে?

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সুবিধা পেতে হলে নিহত ব্যক্তির পরিবারের তরফে নির্দিষ্ট নথিপত্র-সহ আবেদন জমা দিতে হবে। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ, কোন পরিস্থিতিতে মৃত্যু হয়েছিল এবং ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক হিংসার যোগসূত্রের প্রমাণ আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হতে পারে।

আবেদন জমা পড়বে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে। এরপর জেলাশাসকের দপ্তরে জমা পড়া নথি ও তথ্য যাচাই করা হবে। প্রয়োজনে পুলিশি রিপোর্টও খতিয়ে দেখা হবে। জেলা প্রশাসনের তদন্ত ও যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরেই চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হবে বলে সূত্রের খবর।

চূড়ান্ত তালিকায় যাঁদের নাম থাকবে, তাঁদের পরিবারের একজন সদস্যের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কোন দপ্তরে চাকরি দেওয়া হবে, শিক্ষাগত যোগ্যতা বা বয়সের ক্ষেত্রে কী শর্ত থাকবে এবং আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা কত দিন—এই বিষয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই বিস্তারিত জানা যাবে।

এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক হিংসায় স্বজন হারানো পরিবারগুলির ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা কমাতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে প্রকল্পের বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং প্রকৃত উপভোক্তা চিহ্নিত করাই হবে প্রশাসনের বড় দায়িত্ব।

এখন নজর সরকারি বিজ্ঞপ্তির দিকে। মন্ত্রিসভার ছাড়পত্রের পর কবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং চাকরির ক্ষেত্রে কী যোগ্যতার শর্ত রাখা হবে—সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সম্ভাব্য উপভোক্তারা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর