ফিলিপ্সের বিধ্বংসী সেঞ্চুরি, ভারতের বিরুদ্ধে ২৫৯ রান নিউজিল্যান্ডের! ৮৭ রানে হারল টিম ইন্ডিয়া

গ্লেন ফিলিপ্সের বিধ্বংসী সেঞ্চুরি ও মাইকেল ব্রেসওয়েলের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ভারতের বিরুদ্ধে ২৫৯ রান করল নিউজিল্যান্ড। জবাবে ১৭২ রানেই শেষ হল ভারতের ইনিংস। ৮৭ রানে জিতে সিরিজে ফিরল কিউয়িরা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভারতের বোলিং আক্রমণকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বোচ্চ রান তুলে ফেলল নিউজিল্যান্ড। অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে গ্লেন ফিলিপ্সের বিধ্বংসী সেঞ্চুরি এবং মাইকেল ব্রেসওয়েলের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের দাপটে ২০ ওভারে ২৫৯ রান করল কিউয়িরা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে ভারত। শেষ পর্যন্ত ১৭২ রানেই থামতে হল টিম ইন্ডিয়াকে। ফলে ৮৭ রানে ম্যাচ জিতে সিরিজের ব্যবধান ৩-১ করল নিউজিল্যান্ড।

টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ভারত অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। শুরুতেই টিম সেইফার্টকে মাত্র ৩ রানে ফিরিয়ে দিয়েছিল ভারত। কিন্তু এরপর ফিন অ্যালেন ও ড্যারেল মিচেল ইনিংস সামলান। অ্যালেন করেন ৩১ রান, মিচেলের ব্যাট থেকে আসে ২৪ রান। তাঁদের বিদায়ের পর পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কার্যত নিজেদের হাতে তুলে নেন গ্লেন ফিলিপ্স।

ফিলিপ্সের ৪৯ বলে ১০৭, ব্রেসওয়েলের ঝড়

ভারতীয় বোলারদের কোনওরকম স্বস্তি দেননি ফিলিপ্স। মাত্র ৪৯ বলে ১০৭ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৬টি চার ও ১০টি ছক্কা। অক্ষর প্যাটেল থেকে প্রিন্স যাদব—ভারতের কোনও বোলারই তাঁর আক্রমণ সামলাতে পারেননি।

ফিলিপ্সের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তোলেন মাইকেল ব্রেসওয়েল। মাত্র ২৫ বলে ৬৫ রান করেন তিনি। চারটি চার ও ছটি ছক্কায় সাজানো ছিল তাঁর ইনিংস। বেশ কয়েকটি দুর্দান্ত স্কুপ শটেও দর্শকদের মুগ্ধ করেন ব্রেসওয়েল। দু’জনের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে মাত্র ১৬ ওভারের মধ্যেই ২০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।

ভারতের বোলারদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে সফল ময়ঙ্ক যাদব। ৪৮ রান দিয়ে তিনটি উইকেট পান তিনি। তবে অক্ষর প্যাটেল তিন ওভারে ৪৩ রান দেন। সবচেয়ে বেশি রান খরচ করেন নীতিশ রেড্ডি। চার ওভারে ৬৪ রান দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ২৫৯ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। টি-টোয়েন্টিতে এটাই কিউয়িদের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। এর আগে তাদের সর্বোচ্চ রান ছিল ২৫৪, চার বছর আগে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেই রান করেছিল তারা।

প্রথম ওভারেই জোড়া ধাক্কা, চাপে ভারত

২৬০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ভারত। প্রথম ওভারেই জোড়া উইকেট তুলে নেন জেকব ডাফি। বৈভবের পরিবর্তে এই ম্যাচে সুযোগ পাওয়া ঈশান কিষান কোনও রান না করেই ফিরে যান। অন্যদিকে, সঞ্জু স্যামসন করেন মাত্র ৪ রান।

আগের ম্যাচে ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করে নজর কেড়েছিলেন অভিষেক শর্মা। কিন্তু এদিন তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১৫ বলে ২৭ রান। অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। তাঁর সংগ্রহ মাত্র ২২ রান। ফলে ছয় ওভারের মধ্যেই চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ভারত।

এরপর তিলক বর্মা ও নমন ধীর কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করেন। তিলকের ব্যাট থেকে আসে ৩৫ রান, নমন করেন ২৮। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ২৬০ রানের লক্ষ্য তাঁদের পক্ষেও নাগালের মধ্যে আনা সম্ভব হয়নি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৭২ রানেই শেষ হয় ভারতের ইনিংস।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে দুরন্ত বোলিং করেন জেকব ডাফি। ২৩ রান দিয়ে চারটি উইকেট তুলে নেন তিনি। শুরুতেই ভারতের ব্যাটিংয়ের ভিত নড়িয়ে দেওয়ার পর বাকি ইনিংসেও চাপ বজায় রাখেন কিউয়ি বোলাররা।

প্রথম তিন ম্যাচে দুরন্ত ব্যাটিং করে সিরিজে আধিপত্য দেখিয়েছিল ভারত। কিন্তু চতুর্থ ম্যাচে ব্যাট হাতে একাই ম্যাচের রং বদলে দেন ফিলিপ্স। তাঁর সেঞ্চুরি এবং ব্রেসওয়েলের ঝোড়ো ইনিংসের সৌজন্যে সিরিজের ব্যবধান কমিয়ে ৩-১ করল নিউজিল্যান্ড।

এবার সিরিজের শেষ ম্যাচে দুই দল মুখোমুখি হবে ১ নভেম্বর হ্যামিল্টনে। সেই ম্যাচে কি আবার সুযোগ পাবেন ১৫ বছরের বিস্ময়কিশোর বৈভব? সিরিজের শেষ ম্যাচে ভারতীয় দলে কী পরিবর্তন হয়, সেদিকেই নজর থাকবে সমর্থকদের। ভারত কি ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ শেষ করবে, নাকি শেষ ম্যাচ জিতে ব্যবধান আরও কমাবে নিউজিল্যান্ড?

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর