একদিনে ১৮ উইকেট! কেরলের বিরুদ্ধে জয়ের মুখে বাংলা, হ্যাটট্রিকের হাতছানি

শাহবাজ আহমেদের সেঞ্চুরি ও বোলারদের দাপটে কেরলের বিরুদ্ধে ম্যাচে চালকের আসনে বাংলা। তৃতীয় দিনে ১৮ উইকেট পড়ার পর শেষ দিনের আগে জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল অভিমন্যু ঈশ্বরণদের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রনজি ট্রফিতে দুরন্ত ছন্দে বাংলা। কেরলের বিরুদ্ধে ম্যাচেও জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল অভিমন্যু ঈশ্বরণদের। বুধবার ম্যাচের তৃতীয় দিনে ব্যাট-বলের লড়াইয়ে মোট ১৮টি উইকেট পড়েছে। প্রথম ইনিংসে শাহবাজ আহমেদের দুরন্ত সেঞ্চুরির পর বল হাতে দাপট দেখিয়েছেন বাংলার বোলাররা। দিনের শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯৮ রানে অলআউট হয়ে গেলেও ম্যাচে এগিয়ে রয়েছে বাংলা। জয়ের জন্য কেরলের সামনে ৪০৮ রানের লক্ষ্য। তৃতীয় দিনের শেষে কেরলের স্কোর ৪ উইকেটে ৫১ রান। অর্থাৎ, শেষ দিনে জিততে হলে আরও ৩৫৭ রান করতে হবে কেরলকে।

কেরলের বিরুদ্ধে ম্যাচে প্রথম ইনিংসে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলার। দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল। অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ, সুদীপ চট্টোপাধ্যায় এবং অভিষেক পোড়েল বড় রান করতে পারেননি। তবে সেই ধাক্কা সামলে দেন শাহবাজ আহমেদ। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে শতরান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল আটটি চার ও চারটি ছক্কা।

শাহবাজকে সঙ্গ দেন সুমন্ত গুপ্ত। অল্পের জন্য অর্ধশতরান হাতছাড়া করেন তিনি। তাঁদের জুটিতে বাংলার স্কোর এগিয়ে যায়। লোয়ার অর্ডার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ রান আসে। শেষ পর্যন্ত প্রথম ইনিংসে ৩৫০ রান তোলে বাংলা। কেরলের হয়ে চার উইকেট নেন আদিত্য সারওয়াতে।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলার বোলারদের সামনে খুব বেশি প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি কেরল। প্রথম দিনের শেষে ছয় উইকেট হারিয়েছিল তারা। বুধবার সকালে দ্রুত বাকি চার উইকেট তুলে নিয়ে কেরলকে ১৪১ রানে অলআউট করে বাংলা। ফলে প্রথম ইনিংসে ২০৯ রানের বড় লিড পায় অভিমন্যু ঈশ্বরণদের দল।

বল হাতে নজর কাড়েন মহম্মদ শামি ও প্রদীপ্ত প্রামাণিক। শামি তিনটি এবং প্রদীপ্ত চারটি উইকেট নেন। শাহবাজ আহমেদও তুলে নেন দুটি উইকেট। বাংলার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে কেরলের ব্যাটিং লাইনআপ কার্যত ভেঙে পড়ে।

প্রথম ইনিংসে বড় লিড পাওয়ার পর কেরলকে দ্রুত চাপে ফেলতে দ্বিতীয় ইনিংসে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করে বাংলা। অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ সর্বোচ্চ ৪৭ রান করেন বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তবে দ্রুত রান তুলতে গিয়ে নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারায় দল।

শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯৮ রানেই শেষ হয় বাংলার ইনিংস। ফলে দুই ইনিংস মিলিয়ে কেরলের সামনে ৪০৮ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়। প্রথম ইনিংসের বড় লিড থাকায় দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয় সত্ত্বেও ম্যাচে সুবিধাজনক জায়গায় বাংলা।

দ্বিতীয় ইনিংসেও বাংলার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ তৈরি করেছেন। প্রদীপ্ত প্রামাণিক আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। প্রথম ইনিংসে চার উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও উইকেট তুলে কেরলের ব্যাটিংকে চাপে রাখেন তিনি। শামির পেস এবং বাংলার স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বিপাকে পড়েছে কেরল।

তৃতীয় দিনের শেষে কেরলের স্কোর ৪ উইকেটে ৫১। জয়ের জন্য শেষ দিনে তাদের আরও ৩৫৭ রান করতে হবে, হাতে রয়েছে ছয় উইকেট। এই পরিস্থিতিতে ম্যাচে বাংলার পাল্লাই ভারী। তবে ক্রিকেটে শেষ বল পর্যন্ত ফল নিশ্চিত নয়। শেষ দিনের খেলা শেষ হলেই বোঝা যাবে, চলতি রনজি ট্রফিতে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিতে পারে কি না বাংলা।

চলতি রনজি ট্রফিতে ইতিমধ্যেই ভালো ছন্দে রয়েছে বাংলা। সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে জয়ের পর কেরলের বিরুদ্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতে নেওয়ার সুযোগ এসেছে। এই ম্যাচে জিততে পারলে টানা তৃতীয় জয় পাবে দল। ব্যাট হাতে শাহবাজের সেঞ্চুরি এবং বল হাতে শামি ও প্রদীপ্তের সাফল্য বাংলাকে সেই জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে দিয়েছে।

তবে কেরলকে দ্রুত অলআউট করাই এখন বাংলার প্রধান লক্ষ্য। শেষ দিনে স্পিনাররা কতটা কার্যকর হন এবং কেরলের ব্যাটাররা কতক্ষণ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেন, তার উপরই নির্ভর করছে ম্যাচের চূড়ান্ত ফল।

 

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর