ভারতীয় টেনিসের পরিচিত মুখ সানিয়া মির্জা ফের খবরের শিরোনামে। এ বার হায়দরাবাদে একটি জমিতে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগকে ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানে আগে টেনিস প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা ছিল। নানা জটিলতায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হওয়ায় জমিটি মসজিদ নির্মাণের কাজে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সানিয়া বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মসজিদ নির্মাণের খরচও বহন করবেন প্রাক্তন টেনিস তারকা। সম্প্রতি প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার মহম্মদ আজহারউদ্দিন মসজিদের শিলান্যাস করেছেন বলে জানানো হয়েছে। তিনি বর্তমানে তেলঙ্গানার কংগ্রেস সরকারের মন্ত্রীও।
তবে জমিটির মালিকানা, ব্যবহারের অনুমতি এবং নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। তাই বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে সেই তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
টেনিস প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা ছিল
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হায়দরাবাদ শহরের একটি বাণিজ্যিক এলাকার কাছে সানিয়ার একটি ফাঁকা জমি রয়েছে। সেখানে টেনিস প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু নানা সমস্যার কারণে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
এর পর জমিটি মসজিদ নির্মাণের কাজে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্মাণের খরচও সানিয়া নিজেই বহন করবেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই প্রশ্ন তুলেছেন কিছু নেটিজেন। তাঁদের বক্তব্য, টেনিস প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করা সম্ভব না হলে সেখানে স্কুল বা হাসপাতালের মতো জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যেত কি না, তা বিবেচনা করা উচিত ছিল। অন্যদিকে, স্থানীয় মানুষের প্রার্থনার সুবিধার বিষয়টি সামনে এনে সানিয়ার উদ্যোগকে সমর্থনও করছেন অনেকে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি মসজিদ নির্মাণের শিলান্যাস করেছেন মহম্মদ আজহারউদ্দিন। ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিতির পাশাপাশি তিনি তেলঙ্গানার রাজনীতিতেও সক্রিয়। সানিয়া মির্জার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যে এলাকায় মসজিদটি তৈরি হওয়ার কথা, তার আশপাশে বড় মসজিদ না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নমাজ পড়তে দূরে যেতে হয় বলে দাবি করা হয়েছে। সেই প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেই মসজিদ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তবে মসজিদ নির্মাণের অনুমোদন, জমির নির্দিষ্ট ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নথি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে নির্মাণের আইনি দিক নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলার সুযোগ নেই।
বিতর্কের মূল বিষয় জমিটির আগের পরিকল্পিত ব্যবহার। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জমিটি টেনিস প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরির উদ্দেশ্যে কেনা হয়েছিল। সেখানে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন কিছু সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী।
অন্যদিকে, মসজিদ নির্মাণকে সমর্থনকারীদের বক্তব্য, স্থানীয় বাসিন্দাদের ধর্মীয় প্রয়োজন মেটানোও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বিষয়টি নিয়ে সমাজমাধ্যমে দুই ধরনের মত উঠে এসেছে।
তবে কোনও জমির ব্যবহার নিয়ে সিদ্ধান্ত মূল্যায়নের ক্ষেত্রে জমির দলিল, অনুমোদিত ব্যবহার, প্রযোজ্য বিধি এবং প্রশাসনিক অনুমতির মতো তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। শুধু সমাজমাধ্যমের মন্তব্যের ভিত্তিতে কোনও সিদ্ধান্ত বেআইনি বা অনুচিত বলে ধরে নেওয়া যায় না।
সানিয়া মির্জা দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক টেনিসে ভারতের অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন। তাঁর কেরিয়ারে ছয়টি গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা রয়েছে। পেশাদার টেনিস থেকে সরে আসার পরেও ক্রীড়া ও বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের কারণে তিনি সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় থাকেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুবাইয়ে তাঁর একটি টেনিস অ্যাকাডেমি রয়েছে এবং তিনি দুবাই স্পোর্টসের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবেও যুক্ত। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও অতীতে সংবাদমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। তবে বর্তমান বিতর্কের মূল বিষয় হায়দরাবাদের জমিতে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ।
সব মিলিয়ে, সানিয়া মির্জার নামে মসজিদ নির্মাণের এই উদ্যোগ ঘিরে একদিকে স্থানীয়দের ধর্মীয় প্রয়োজনের কথা সামনে এসেছে, অন্যদিকে জমির ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নির্মাণের অনুমোদন ও জমির মালিকানা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে এলে বিতর্কের বিভিন্ন দিক আরও স্পষ্ট হবে।



