৯১ শতাংশ ভোটগণনাতেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অধরা নেতানিয়াহুর, ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে বিরোধীরা!

ইজরায়েলের নির্বাচনে প্রায় ৯১ শতাংশ ভোট গণনার পরও ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে পিছিয়ে নেতানিয়াহুর জোট। আরব দলগুলির বিরুদ্ধে লিকুদের ভোট কারচুপির অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে তদন্তের দাবি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ইজরায়েলের নির্বাচনে প্রায় ৯১ শতাংশ ভোট গণনার পরও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দূরে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর (Benjamin Netanyahu) জোট। আংশিক ফলাফলে তাঁর দল লিকুদ (Likud)-এর নেতৃত্বাধীন শিবির ৫৩টি আসন পেতে পারে, অন্যদিকে গাদি আইজেনকটের (Gadi Eisenkot) নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবিরের সম্ভাব্য আসন ৪৮। আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলি সম্মিলিত ভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে। এরই মধ্যে আরব দলগুলির বিরুদ্ধে ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলেছে লিকুদ। কিন্তু সেই অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণ মেলেনি।

ইজরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে (Knesset) সরকার গড়তে প্রয়োজন ৬১টি আসন। সেই হিসেবে নেতানিয়াহুর শিবির এখনও আটটি আসন পিছিয়ে। বিরোধী শিবিরও এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দূরে। ফলে নির্বাচনে কোন জোট এগিয়ে রয়েছে, তার পাশাপাশি সরকার গঠনের জন্য কে কাদের সমর্থন পাবে, তা-ই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

নির্বাচনের আংশিক ফল প্রকাশ্যে আসার পর আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে নেতানিয়াহুর দল। লিকুদের অভিযোগ, আরব অধ্যুষিত এলাকার কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে ঘুষ, ভয় দেখানো, হিংসা, জাল নথি ব্যবহার এবং একাধিকবার ভোট দেওয়ার মতো অনিয়ম হয়েছে। দলটি পুলিশ, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত (Shin Bet) এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির কাছে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তবে এগুলি লিকুদের অভিযোগ—স্বাধীনভাবে প্রমাণিত ঘটনা নয়।

অন্যদিকে, জয়েন্ট লিস্ট (Joint List) এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের বক্তব্য, আরব ভোটারদের অংশগ্রহণকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে এই অভিযোগ তোলা হচ্ছে। প্রাথমিক ফলাফলে আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলির উল্লেখযোগ্য আসনপ্রাপ্তি নির্বাচনের সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে নির্বাচন কমিশন অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখছে এবং এখনও চূড়ান্ত ফল ঘোষণা হয়নি।

ইজরায়েলের নির্বাচনে মূল লড়াই নেতানিয়াহুর দক্ষিণপন্থী ও ধর্মীয় দলগুলির জোট এবং আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবিরের মধ্যে। কিন্তু দুই শিবিরের কোনওটিই এখনও এককভাবে ৬১টি আসনের গণ্ডি পেরোতে পারছে না। আরব দলগুলির সমর্থন ছাড়া বিরোধীদের সরকার গঠনও কঠিন। তবে আরব দলগুলিকে সরকারে সামিল করা নিয়ে ইজরায়েলের রাজনীতিতে মতবিরোধ রয়েছে। ফলে আসনসংখ্যার পাশাপাশি জোটের সম্ভাব্য সমীকরণও ফলাফলের চূড়ান্ত গুরুত্ব নির্ধারণ করবে।

ভোটগণনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ‘ডাবল এনভেলপ’ বা দ্বিস্তরীয় খামে জমা দেওয়া ব্যালট। সেনাকর্মী, বিদেশে কর্মরত কূটনীতিক এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সাধারণ ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোট দেওয়া যোগ্য ভোটারদের ব্যালট এই প্রক্রিয়ায় গণনা করা হয়। এই ভোটগুলির হিসাব চূড়ান্ত আসনবণ্টনে পরিবর্তন আনতে পারে।

ফলে এখনই সরকার গঠনের ছবিটি স্পষ্ট নয়। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ (Isaac Herzog) রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে আলোচনা করে সরকার গঠনের জন্য উপযুক্ত নেতাকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবেন। কোনও পক্ষই প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে না পারলে দীর্ঘ রাজনৈতিক দর-কষাকষি কিংবা নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর