নতুন শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে নিষেধাজ্ঞার পথে রাজ্য, আইনি চ্যালেঞ্জ বিকাশরঞ্জনের

পশ্চিমবঙ্গে নতুন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে অংশগ্রহণে বিধিনিষেধ আনার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর। সিদ্ধান্তের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও ডিএ আন্দোলনের নেতা ভাস্কর ঘোষ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে অংশগ্রহণে বিধিনিষেধ আরোপের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার নবান্নে তিনি জানান, স্কুল সার্ভিস কমিশনের (School Service Commission) নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই শর্ত যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। পঞ্চায়েত, পুরসভা, লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া এবং প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে যুক্ত থাকার ক্ষেত্রে নতুন শিক্ষকদের উপর বিধিনিষেধ কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। এই ঘোষণার পরেই সিদ্ধান্তের আইনি বৈধতা ও শিক্ষকদের রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং ডিএ আন্দোলনের নেতা ভাস্কর ঘোষ।

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই দিনে আরও ১,১৯৯টি শূন্যপদ তৈরির কথাও জানান তিনি। তবে প্রস্তাবিত বিধির সুনির্দিষ্ট ভাষা, কার্যকর হওয়ার সময়সীমা এবং কোন কোন কার্যকলাপকে প্রত্যক্ষ রাজনীতি হিসেবে গণ্য করা হবে, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় বিকাশরঞ্জন, আইনি চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত

নতুন নিয়োগবিধি নিয়ে আপত্তি তুলেছেন আইনজীবী ও সিপিএমের রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য (Bikash Ranjan Bhattacharya)। তাঁর বক্তব্য, সরকারের সিদ্ধান্তের বাস্তব রূপ কী হবে, তা বিধি প্রকাশের পরেই বোঝা যাবে। তিনি এই পদক্ষেপের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং প্রয়োজন হলে আদালতে বিষয়টি মোকাবিলার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বিকাশরঞ্জনের মতে, শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে অংশগ্রহণের অধিকার সীমিত করার সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি খতিয়ে দেখা জরুরি। তাঁর বক্তব্য, কোনও বিধি তৈরি হলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাংবিধানিক হয়ে যায় না। তবে প্রস্তাবিত নিয়মের বিষয়ে আদালতের কোনও চূড়ান্ত রায় এখনও সামনে আসেনি।

রাজ্য সরকারের ঘোষণার সমালোচনা করেছেন ডিএ আন্দোলনের নেতা ভাস্কর ঘোষও। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষাঙ্গনকে প্রত্যক্ষ রাজনীতির প্রভাব থেকে দূরে রাখতে হলে শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন কমিটির ক্ষেত্রেও একই নীতি থাকা উচিত। শুধু নতুন শিক্ষক নিয়োগের শর্তে বিধিনিষেধ আরোপ করলেই সেই উদ্দেশ্য পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

ভাস্কর ঘোষের আরও বক্তব্য, রাজ্যে শিক্ষকদের রাজনৈতিক কার্যকলাপের বিষয়ে যে বিধি রয়েছে, তার সঙ্গে নতুন সিদ্ধান্তের সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন। আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন না করে এই বিধিনিষেধ কার্যকর করতে গেলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে তাঁর আশঙ্কা। অন্যদিকে, সরকারের যুক্তি, শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ।

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় স্পষ্ট করা হয়েছে, নতুন বিধিনিষেধ মূলত ভবিষ্যতে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের জন্য। বর্তমানে কর্মরত এবং প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে যুক্ত শিক্ষকদের বিদ্যমান অধিকার এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে খর্ব করা হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। ফলে প্রস্তাবিত নিয়মের প্রভাব বর্তমান শিক্ষক ও ভবিষ্যতের চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে এক হবে না।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ এক বিষয় নয়। নতুন বিধিতে এই দুইয়ের মধ্যে কীভাবে সীমারেখা টানা হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। শিক্ষক সংগঠনগুলির আপত্তি এবং বিদ্যমান নিয়োগ ও আচরণবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যের প্রশ্নের উত্তর মিলবে চূড়ান্ত বিধি প্রকাশের পর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর