নাগপুরে কংগ্রেসের জয়, বারাণসীতেও ধাক্কা বিজেপির! মোদীর খোঁচার জবাবে পাল্টা কটাক্ষ হাত শিবিরের

নাগপুর বিধান পরিষদ আসনে বিজেপির সুধাকর কোহালেকে ৩,২৭১ ভোটে হারিয়ে জয়ী কংগ্রেসের অভিজিৎ ওয়াংজারি। দীর্ঘ গণনার পর ফল প্রকাশ্যে আসতেই নরেন্দ্র মোদীর কটাক্ষের পাল্টা জবাব দিল কংগ্রেস।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মহারাষ্ট্রের নাগপুরে বিধান পরিষদ নির্বাচনে জয় পেল কংগ্রেস। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) সদর দফতর এবং মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীসের নিজের শহর হিসেবে পরিচিত নাগপুরে বিজেপি প্রার্থী সুধাকর কোহালেকে হারিয়েছেন কংগ্রেসের অভিজিৎ ওয়াংজারি। দীর্ঘ গণনার পর বৃহস্পতিবার ভোরে ৩,২৭১ ভোটে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। অন্য দিকে, উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতেও বিধান পরিষদের একটি আসনে বিজেপির হারকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে পাল্টা আক্রমণ করেছে কংগ্রেস।

চার রাজ্যের বিধান পরিষদ নির্বাচনে কংগ্রেসের সামগ্রিক ফল প্রত্যাশামতো না হলেও নাগপুরের জয় দলটির কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এই আসনটি বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। কংগ্রেসের জয় নিশ্চিত হওয়ার পরই সমাজমাধ্যমে মোদীর আগের কটাক্ষের জবাব দেন দলের নেতা পবন খেরা। তাঁর প্রশ্ন, নাগপুরে শেষ পর্যন্ত কে জিতল?

চার রাজ্যের ২৮টি বিধান পরিষদ আসনে ভোট হয়েছিল। উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, বিহার ও কর্নাটকের এই নির্বাচনে বিজেপি এবং তাদের সহযোগী দলগুলি মিলিয়ে ১৬টি আসন পেয়েছে বলে প্রকাশিত ফলাফলে জানানো হয়েছে। কংগ্রেসের জয় এসেছে নাগপুরে। অন্য দিকে, সমাজবাদী পার্টি উত্তরপ্রদেশে পাঁচটি আসন জিতেছে। ফলে সামগ্রিক ফল কংগ্রেসের পক্ষে না গেলেও নাগপুরের জয় দলটির রাজনৈতিক বার্তায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

প্রথমে ফলের ছবিতে কংগ্রেসের কোনও জয় দেখা যাচ্ছিল না। সেই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) সমাজমাধ্যমে প্রশ্ন তোলেন, চার রাজ্যের ২৮টি আসনে ব্যালট পেপারে ভোট হওয়ার পর কংগ্রেস কতটি আসন জিতেছে? পোস্টে চোখে আতশকাচ ধরা ইমোজিও ব্যবহার করেন তিনি। এরপর নাগপুরে কংগ্রেসের জয় সামনে আসতেই পাল্টা প্রশ্ন করেন দলের নেতা পবন খেরা (Pawan Khera)।

তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, নাগপুরে শেষ পর্যন্ত কোন দল জয়ী হয়েছে, তা মোদীকে জানানো হোক। কংগ্রেসের এই প্রতিক্রিয়া প্রধানমন্ত্রীর আগের পোস্টের পাল্টা জবাব হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

নাগপুরের লড়াই ছিল দীর্ঘ এবং হাড্ডাহাড্ডি। গণনা শুরু হয়েছিল মঙ্গলবার সকালে। বুধবার দ্বিতীয় দফার গণনার পর বিজেপি প্রার্থী সুধাকর কোহালে (Sudhakar Kohale) ৪,২৯৪ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় পছন্দের ভোট গণনা এবং প্রার্থীদের বাদ দেওয়ার পর্বে ছবিটা বদলে যায়। শেষ পর্যন্ত ৬৭,২৩১ ভোট পেয়ে জয়ী হন অভিজিৎ ওয়াংজারি (Abhijeet Wanjari)। কোহালে পান ৬৩,৯৬০ ভোট। ব্যবধান দাঁড়ায় ৩,২৭১।

নাগপুরের ফলের গুরুত্ব শুধু আসন জয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শহরটি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (Rashtriya Swayamsevak Sangh) সদর দফতরের জন্য পরিচিত। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস (Devendra Fadnavis) এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গডকরী (Nitin Gadkari)-রও নিজের শহর নাগপুর। বিজেপি প্রার্থীকে জেতাতে দু’জনেই প্রচার করেছিলেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গডকরী ১৯৯০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত নাগপুরের এই স্নাতক কেন্দ্র থেকে বিধান পরিষদের সদস্য ছিলেন।

মহারাষ্ট্রের পাঁচটি বিধান পরিষদ আসনের ফলেও শাসক মহাজুটি এবং বিরোধী মহাবিকাশ আঘাড়ির মধ্যে লড়াইয়ের ছবি উঠে এসেছে। বিরোধী মহাবিকাশ আঘাড়ি তিনটি আসন জিতেছে, শাসক মহাজুটি পেয়েছে দু’টি। নাগপুরে কংগ্রেসের জয় ছাড়াও শরদ পওয়ারের এনসিপি (শরদচন্দ্র পওয়ার) দুটি আসনে জিতেছে। বিজেপি এবং একনাথ শিন্দের শিবসেনা একটি করে আসন পেয়েছে।

নাগপুরে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের সমাজমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকেও ফড়নবীসকে নিশানা করা হয়। কংগ্রেসের দাবি, ফল প্রকাশের আগেই ফড়নবীস দলটির শূন্য আসন পাওয়ার কথা লিখেছিলেন। পরে নাগপুরের ফল কংগ্রেসের পক্ষে যাওয়ায় সেই পোস্ট মুছে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করেছে তারা। এই বক্তব্য কংগ্রেসের দাবি হিসেবেই বিবেচ্য।

চার রাজ্যের বিধান পরিষদ নির্বাচনে কংগ্রেসের সামগ্রিক ফল দুর্বল হলেও নাগপুরের জয় দলটিকে বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে পাল্টা রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। মোদীর কটাক্ষের জবাবে কংগ্রেসের প্রশ্নও এখন সেই একটি ফলকে ঘিরেই—নাগপুরে জয়ী হল কে?

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর