সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ১০ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন তৃণমূল নেতা অজিত মাহাতো। বন দফতরে স্থায়ী চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক যুবকের কাছ থেকে কয়েক দফায় এই টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ অভিযুক্তকে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার তাঁকে আদালতে পেশ করার কথা। এই ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতির অভিযোগ ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগকারী ঝাড়গ্রামের বাছুরডোবা এলাকার বাসিন্দা সজল দাস। তাঁর অভিযোগ, অজিত মাহাতো নিজেকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে এবং রাজ্য সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা বলে বন দফতরে স্থায়ী সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করেই তিনি অভিযুক্তকে টাকা দেন বলে অভিযোগ।
সজলের দাবি, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে মোট চার দফায় ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল অজিত মাহাতোকে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চাকরি মেলেনি। এরপর টাকা ফেরত চেয়ে অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগ করেন অভিযোগকারী। কিন্তু তাতেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ।
টাকা ফেরত চাইতেই প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
অভিযোগকারীর আরও দাবি, টাকা ফেরত চাওয়ার পর তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেন অজিত মাহাতো। শুধু তাই নয়, আগের টাকা ফেরত না দিয়েই তাঁর কাছে অতিরিক্ত ২ লক্ষ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ দায়ের করেছেন সজল।
একই পদ্ধতিতে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আরও কয়েকজন বেকার যুবকের কাছ থেকেও টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি। ফলে এই ঘটনার পিছনে কোনও বড় প্রতারণা চক্র কাজ করছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অভিযুক্তের নিজের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার তাঁকে আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, এই প্রতারণার ঘটনায় আর কারা জড়িত, অন্য কোনও যুবকও একইভাবে প্রতারিত হয়েছেন কি না এবং আর্থিক লেনদেনের পিছনে আরও কেউ রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।
সরকারি চাকরির আশায় টাকা দিয়ে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। বিশেষ করে বেকার যুবকদের চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ নেওয়ার ঘটনা উদ্বেগ বাড়ায়। ঝাড়গ্রামের এই ঘটনায় তদন্তে আর কী কী তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে।



