‘পুরো বন্দে মাতরম নয়, গাওয়া হবে শুধু দুই স্তবক’, কেন্দ্রের অবস্থানের বিরোধিতায় শিবকুমার

কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকার বদলে কংগ্রেসের ১৯৩৭ সালের সিদ্ধান্তই মানবে কর্নাটক সরকার। সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দুই স্তবক গাওয়ার কথা জানালেন ডিকে শিবকুমার।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) নিয়ে কেন্দ্র ও কংগ্রেসের সংঘাত আরও প্রকাশ্যে এল কর্নাটকে। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার (DK Shivakumar) জানিয়ে দিলেন, রাজ্য সরকারের অনুষ্ঠানগুলিতে কংগ্রেসের সিদ্ধান্তই মানা হবে—গাওয়া হবে জাতীয় গানের প্রথম দুই স্তবক। অর্থাৎ, ছয় স্তবকের সম্পূর্ণ ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার কেন্দ্রীয় নির্দেশিকার বদলে কর্নাটক সরকার আপাতত পুরনো কংগ্রেসি অবস্থানেই থাকবে।

কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন সময়ে এল, যখন ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার পদ্ধতি নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ১৫ অগস্টের একটি সরকারি অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণ গান গাওয়া হয়েছিল বলে যে প্রশ্ন উঠেছিল, সে প্রসঙ্গে শিবকুমার বলেন, বিষয়টি তাঁর অজান্তে হয়ে থাকতে পারে। এমনকি রাজভবনে এমনটা ঘটে থাকলেও ভবিষ্যতে রাজ্য সরকারের অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের সিদ্ধান্তই কার্যকর থাকবে বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

শিবকুমারের কথায়, তিনি কংগ্রেসের আদর্শে বিশ্বাস করেন এবং দল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার পাশেই থাকবেন। সরকারি কর্মসূচিতে ভবিষ্যতে ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দুই স্তবকই গাওয়া হবে বলে কার্যত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর এই অবস্থান কেন্দ্রের নতুন প্রোটোকলের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

গত সপ্তাহেই কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি (Congress Working Committee) ১৯৩৭ সালের সিদ্ধান্ত ফের সামনে এনে জানায়, দলের অনুষ্ঠানগুলিতে ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দুই স্তবকই গাওয়া হবে। সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পিছনে তৎকালীন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছিল। কংগ্রেসের বর্তমান অবস্থানও সেই পুরনো সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করেই তৈরি।

অন্যদিকে, কেন্দ্র ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় গান নিয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। সেই নির্দেশিকার ভিত্তিতে আকাশবাণী (Akashvani) ২৬ মার্চ থেকে ছয় স্তবকের পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ সম্প্রচার শুরু করে। কেন্দ্রীয় ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ ‘বন্দে মাতরম’-কে সামনে আনার সিদ্ধান্তই বর্তমানে কংগ্রেস-বিজেপি রাজনৈতিক সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

বিজেপি (BJP) ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের দুই স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে। দলের অভিযোগ, জাতীয় গানের সম্পূর্ণ সংস্করণ থেকে সরে যাওয়া ‘বন্দে মাতরম’-এর মর্যাদার প্রতি অসম্মান। ২২ অগস্ট বিজেপিও একটি প্রস্তাব পাশ করে গানটির পূর্ণ ঐতিহ্য ও মর্যাদা রক্ষার পক্ষে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

কংগ্রেস অবশ্য তাদের অবস্থানকে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় তোষণের সঙ্গে যুক্ত করার অভিযোগ মানতে নারাজ। দলের বক্তব্য, ১৯৩৭ সালের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতাতেই প্রথম দুই স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসের যুক্তি, গানটির পরের অংশগুলিতে হিন্দু দেবদেবীর উল্লেখ থাকায় তা নিয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে আপত্তির প্রশ্ন উঠেছিল।

কর্নাটকে এই বিতর্ক আরও একটি রাজনৈতিক মাত্রা পেয়েছে। শিবকুমারের কাছে তোষণ-রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কংগ্রেসের ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’ নীতির কথা তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপিই তোষণের রাজনীতি করছে; কংগ্রেসের অবস্থান হল দেশের প্রতিটি সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে চলা।

ফলে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে কেন্দ্র বনাম কংগ্রেসের রাজনৈতিক টানাপড়েন এখন রাজ্য প্রশাসনের ক্ষেত্রেও ঢুকে পড়ল। কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা একদিকে, অন্যদিকে কংগ্রেসের ১৯৩৭ সালের সিদ্ধান্ত—কর্নাটকে শিবকুমারের ঘোষণার পর এই দ্বন্দ্ব যে আরও তীব্র হবে, তা বলাই যায়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন