ক্যামাক স্ট্রিটে অশান্তির জের, ৩ এফআইআর-এ অভিষেক-ডেরেকদের নাম, গ্রেফতার ১৩

ক্যামাক স্ট্রিটে বিলবোর্ড খোলা নিয়ে অশান্তির ঘটনায় তিনটি এফআইআর দায়ের, গ্রেফতার ১৩। অভিষেক-ডেরেকদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) দফতরের সামনে বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবারের অশান্তির ঘটনায় তিনটি এফআইআর দায়ের করেছে কলকাতা পুলিশ। ইতিমধ্যেই ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি ডেরেক ও’ব্রায়েন (Derek O’Brien), বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, হুমায়ুন কবীর-সহ তৃণমূলের একাধিক সমর্থকের নাম রয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (Bharatiya Nyaya Sanhita) একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।

তিনটি এফআইআরই শেক্সপিয়র সরণি থানায় দায়ের হয়েছে। একটি অভিযোগ করেছেন কলকাতা পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগের আধিকারিক, দ্বিতীয়টি পার্ক স্ট্রিট থানার এক সার্জেন্টের এবং তৃতীয় মামলায় মহিলা পুলিশকর্মীদের হেনস্থা ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগও আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার ভিডিয়ো ফুটেজ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।

কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারের ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ এসেছে। তাঁর বক্তব্য, পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। সহযোগিতা চাওয়া হলেও তা মেলেনি বলে দাবি করেন তিনি। ভিডিয়ো ফুটেজ পরীক্ষা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার।

প্রথম মামলাটি করেছেন কলকাতা পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজার সুদীপকুমার বসু। তাঁর অভিযোগ, পুর কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টে নাগাদ ৯, ক্যামাক স্ট্রিটের উপর ঝুলে থাকা একটি বড় হোর্ডিং খুলতে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় তাঁকে বাধা দেওয়া হয় এবং শারীরিক ভাবে নিগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ।

অভিযোগপত্রে সরকারি আধিকারিক ও পুলিশকর্মীদের কাজে বাধা, মারধর, হুমকি, বেআইনি জমায়েতের মাধ্যমে হিংসা এবং পুরসভার যন্ত্রপাতি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ঘটনার সময় কয়েক জন আহত হন বলেও দাবি করা হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিষেক, ডেরেক, হুমায়ুন, বৈশ্বানর-সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

দ্বিতীয় এফআইআরটি করেছেন পার্ক স্ট্রিট থানার সার্জেন্ট সুজিতকুমার মণ্ডল। তাঁর অভিযোগ, বিকেল ৫টা ১৫ মিনিট নাগাদ ক্যামাক স্ট্রিটে গোলমালের খবর পেয়ে তিনি বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন। বিপজ্জনক ভাবে ঝুলে থাকা বিলবোর্ড খুলতে পুরকর্মীদের সাহায্য করছিল পুলিশ। সেই সময় সিঁড়িতে পুলিশকে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

সুজিতের অভিযোগ, তাঁর কাছ থেকে ওয়াকিটকি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এক জনকে আটক করার চেষ্টা হলে সেখানে থাকা অন্যরা পুলিশের উপর হামলা চালান। ঘটনায় সার্জেন্ট সুজিতকুমার মণ্ডল এবং কনস্টেবল অমিতাভ সাহা আহত হন। তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানোর পর ছেড়ে দেওয়া হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

তৃতীয় এফআইআরেও অভিষেক, ডেরেক, বৈশ্বানরদের নাম রয়েছে। সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং পুলিশ ও পুরকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগের পাশাপাশি এই মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৭৪ নম্বর ধারাও যুক্ত হয়েছে। মহিলা পুলিশকর্মীদের হেনস্থা এবং শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে অবৈধ ভাবে বলপ্রয়োগের অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগও রয়েছে।

অন্যদিকে, পুরসভার তরফে বিলবোর্ড খুলে দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতেই ওই জায়গায় ফের তৃণমূলের নামাঙ্কিত একটি ব্যানার ঝোলানো হয় বলে অভিযোগ। অভিষেকদের দাবি, ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে বেআইনি ভাবে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। পুলিশের আচরণ নিয়েও তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন। এই বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা।

ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনার পর একদিকে যেমন পুলিশের তরফে একাধিক গুরুতর অভিযোগে মামলা ও গ্রেফতারি হয়েছে, অন্যদিকে আইনি পথে পালটা লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিয়েছেন অভিষেকরা। শুক্রবার কলকাতা হাই কোর্টে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হতে পারে। ফলে বিলবোর্ড ঘিরে শুরু হওয়া রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবার আদালত পর্যন্ত গড়াল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর