ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন অভিষেক শর্মা ও বৈভব সূর্যবংশী। অভিষেকের মাত্র ৩৫ বলে শতরান এবং ১৫ বছরের বৈভবের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ১৯৯ রানের লক্ষ্য সহজেই পেরিয়ে গেল ভারত। নিউজিল্যান্ডের ঘরের মাঠে টানা তিন ম্যাচ জিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিজেদের দখলে নিল ভারতীয় দল। সিরিজের বাকি দুই ম্যাচ এখন নিয়মরক্ষার।
প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রান তুলেছিল নিউজিল্যান্ড। জবাবে রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকেন ভারতের দুই ওপেনার। পাওয়ার প্লে-তেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে ভারতের হাতে। শেষ পর্যন্ত ৪০ বল বাকি থাকতে ৬ উইকেটে জয় তুলে নেয় দল।
আগের ম্যাচে বড় রান না পেলেও এই ম্যাচে বৈভব সূর্যবংশীর উপর আস্থা রেখেছিলেন ভারতের কোচ গৌতম গম্ভীর। অভিষেক শর্মার সঙ্গে ওপেন করতে নেমে প্রথম বলেই চার মেরে নিজের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে দেন তরুণ ব্যাটার। এরপর নিউজিল্যান্ডের বোলারদের উপর একের পর এক আক্রমণ চালান দুই ওপেনার।
দু’জনের মধ্যে যেন বড় শট মারার প্রতিযোগিতা চলছিল। অভিষেক ক্রমশ গতি বাড়াতে থাকেন। মাত্র ১৫ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। অন্য দিকে, বৈভবও দ্রুত এগোচ্ছিলেন নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক অর্ধশতরানের দিকে।
তবে ১৯ বলে ৪৫ রান করে থামতে হয় বৈভবকে। ম্যাথু ফিশারের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে বাউন্ডারির কাছে ধরা পড়েন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল চারটি চার ও চারটি ছক্কা। অল্পের জন্য অর্ধশতরান হাতছাড়া হলেও ভারতের রান তোলার গতি কমেনি।
ভারতের ইনিংসের প্রথম পাঁচ ওভারেই স্কোর ১০০ পার করে যায়। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই ওঠে ১১৮ রান। ফলে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের সামনে ম্যাচে ফেরার সুযোগ কার্যত কমে যায়। বৈভব আউট হওয়ার পরেও অভিষেক আক্রমণ চালিয়ে যান এবং মাঠের চার দিকে বড় শট মারতে থাকেন।
মাত্র ৩৫ বলে শতরান পূর্ণ করেন অভিষেক। এর আগে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ৩০ বলে শতরান করেছিলেন তিনি। সেই ইনিংসটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলির মধ্যে দ্রুততম শতরানের নজির গড়েছিল। ওয়েলিংটনেও দ্রুততম শতরানের সেই নজিরের কাছাকাছি পৌঁছলেও এবার তা ভাঙতে পারেননি তিনি।
শেষ পর্যন্ত ৩৮ বলে ১১৩ রান করে কাইল জেমিসনের বলে আউট হন অভিষেক। তাঁর ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ১১টি ছক্কা। অভিষেকের বিদায়ের আগেই জয়ের দরজায় পৌঁছে গিয়েছিল ভারত। বাকি কাজ শেষ করে সিরিজ নিশ্চিত করে দল।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের শুরুটা খুব একটা ভাল হয়নি। টিম সেইফার্টকে ফেরান অর্শদীপ সিংহ। তবে ফিন অ্যালেন ও ড্যারিল মিচেলের ব্যাটে দ্রুত রান তুলতে থাকে স্বাগতিক দল। ওভারপ্রতি ১০ রানের বেশি গতিতে এগোচ্ছিল নিউজিল্যান্ডের ইনিংস।
নীচের দিকে অ্যালেনের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে রান বাড়লেও তাঁকে বেশিক্ষণ থাকতে দেননি নীতীশ রেড্ডি। ২৫ বলে ৪০ রান করে আউট হন অ্যালেন। লং-অনে তাঁর ক্যাচ ধরেন নমন ধীর। আগের দুই ম্যাচে রান পাওয়া গ্লেন ফিলিপসও এ দিন বড় ইনিংস খেলতে পারেননি; ১৭ রান করে ফেরেন তিনি।
এক প্রান্ত ধরে রেখে নিউজিল্যান্ডের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান ড্যারিল মিচেল। বেভন জেকবসের সঙ্গে তাঁর জুটিতে স্কোর পৌঁছয় ১৯৮-এ। ৫২ বলে ৮৯ রানে অপরাজিত থাকেন মিচেল। জেকবস অপরাজিত থাকেন ২৩ বলে ৩৯ রান করে।
১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ভারতের ব্যাটাররা যে গতিতে রান তুলেছেন, তাতে নিউজিল্যান্ডের বড় স্কোরও যথেষ্ট হয়ে ওঠেনি। ভারতের বোলাররা অবশ্য স্বাগতিকদের ২০০ রানের নীচে আটকে রাখলেও কিছু জায়গায় রান খরচ করেছেন। শেষ পর্যন্ত ব্যাটারদের বিধ্বংসী পারফরম্যান্সেই ম্যাচ ও সিরিজ—দু’টিই ভারতের দখলে আসে।



