‘অপরাধ করলে এমনই হবে’, গাইঘাটা এনকাউন্টার নিয়ে দিলীপ ঘোষের বার্তা, পুলিশের ‘অপ্রিয় কাজ’ সমর্থন

গাইঘাটায় ধর্ষণ-খুনে অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর পর কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে বক্তব্য দিলীপ ঘোষের। পুলিশের দাবি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী ও মানবাধিকার সংগঠন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

গাইঘাটায় ধর্ষণ ও খুনের মামলায় অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্য পুলিশের ভূমিকার পক্ষে সওয়াল করলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। মঙ্গলবার সকালে তাঁর বক্তব্য, মানুষের মনে পুলিশের উপর ভরসা ফেরাতে কিছু ‘অপ্রিয় কাজ’ করতে হতে পারে পুলিশকে। একই সঙ্গে আইন ভাঙলে অভিযুক্তদের এমন পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার গভীর রাতে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় একটি কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় অভিযুক্ত ২৩ বছরের প্রহ্লাদ দাসের মৃত্যু হয় পুলিশের গুলিতে। পুলিশের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে ফেরার পথে এক পুলিশকর্মীর সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালান প্রহ্লাদ। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে আহত হন তিনি। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।

পুলিশের এই দাবি ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। হেফাজতে থাকা এক অভিযুক্ত কী ভাবে পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিতে পারলেন, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিরোধী নেতা ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

কী বললেন দিলীপ ঘোষ? গাইঘাটার ঘটনা নিয়ে মঙ্গলবার দিলীপ ঘোষ বলেন, মানুষের মনে পুলিশের উপর আস্থা ফিরিয়ে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, অপরাধীদের মনে আইনের ভয় থাকা জরুরি। আইন ভাঙলে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে বারুইপুরে পুলিশের গুলিতে এক অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনাতেও রাজ্যে এনকাউন্টার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। গাইঘাটার ঘটনার পর সেই বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে।

এনকাউন্টার নিয়ে প্রশ্ন বিরোধীদের: তৃণমূলের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, এনকাউন্টার নিয়ে প্রচার হতে পারে, কিন্তু দেশে আইন রয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইন মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে তাঁর বক্তব্য।

অন্য দিকে, সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী পুলিশের দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, পুলিশি হেফাজতে থাকা অভিযুক্ত কী ভাবে পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিতে পারলেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়াও এই প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, কোনও অভিযুক্ত পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে পুলিশ কেন পাল্টা ব্যবস্থা নেবে না, সেই প্রশ্নও বিবেচনা করা দরকার।

তদন্তের দাবি মানবাধিকার সংগঠনের: গাইঘাটার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর। সংগঠনের সহ-সভাপতি রঞ্জিত সুরের বক্তব্য, গভীর রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সন্দেহ তৈরি করছে। তাঁর প্রশ্ন, অভিযুক্তের হাত কী অবস্থায় ছিল এবং কী ভাবে তিনি পুলিশের রিভলভার ছিনিয়ে নিলেন, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

পুলিশের দাবি, আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালানো হয়েছিল। অন্য দিকে, বিরোধী নেতা ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা ঘটনার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। গাইঘাটার এই ঘটনাকে ঘিরে পুলিশের বক্তব্য, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং মানবাধিকার সংগঠনের উদ্বেগ—তিনটি বিষয়ই এখন আলোচনায়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর