উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় (Gaighata) একাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে ধৃত প্রহ্লাদ দাস পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশকেই সমর্থন করল নির্যাতিতার পরিবার। মঙ্গলবার নিহত ছাত্রীর বাবা-মায়ের দাবি, অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করছিল এবং পুলিশের উপর গুলি চালিয়েছিল বলে তাঁরা শুনেছেন। মেয়েকে আর ফিরে পাবেন না, সেই আক্ষেপের কথাও জানিয়েছেন বাবা। অন্যদিকে, অভিযুক্তের মৃত্যুর খবরকে স্বস্তির বলে বর্ণনা করেছেন পরিবারের অন্য সদস্যেরা।
নিহত ছাত্রীর বাবা সংবাদমাধ্যমের কাছে বলেন, অভিযুক্ত পুলিশের কাছ থেকে পালানোর চেষ্টা করছিল বলে তিনি শুনেছেন। সেই পরিস্থিতিতে পুলিশ গুলি চালিয়েছে বলে তাঁর দাবি। তবে অভিযুক্তের মৃত্যু হলেও মেয়েকে আর ফিরে পাবেন না, সেই আক্ষেপও প্রকাশ করেছেন তিনি।
ছাত্রীর মায়ের বক্তব্য, অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করছিল এবং পুলিশের উপর গুলি চালিয়েছিল বলে তিনি শুনেছেন। পরিবারের আর এক সদস্যের দাবি, এই ঘটনায় তাঁরা পুলিশের পদক্ষেপে সন্তুষ্ট। তাঁদের মতে, মেয়ের মৃত্যুর পর অভিযুক্তের মৃত্যুতে তাঁরা বিচার পেয়েছেন।
পুলিশের দাবি, সোমবার রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য প্রহ্লাদকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। কাজ শেষে ফেরার পথে বৈদ্যবাড়ি এলাকার কাছে প্রস্রাব করার কথা বলে গাড়ি থামাতে বলেন অভিযুক্ত। এরপর এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে তিনি পরপর তিন রাউন্ড গুলি চালান বলে দাবি পুলিশের। একটি গুলি পুলিশের গাড়িতেও লাগে বলে জানানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রের আরও দাবি, আচমকা গুলি চলতে শুরু করলে পুলিশকর্মীরা আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। এই ঘটনায় এক পুলিশকর্মী জখম হন। এক জন রাস্তার পাশের জলাশয়ে ঝাঁপ দেন বলেও দাবি করা হয়েছে। এরপর পাল্টা চার রাউন্ড গুলি চালায় পুলিশ। তার মধ্যে একটি গুলি প্রহ্লাদের শরীরে লাগে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। আহত পুলিশকর্মীরও চিকিৎসা করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার রাতে। গাইঘাটা থানা এলাকার ১৭ বছরের ওই ছাত্রী বাড়ির কাছে একটি জলসা দেখতে গিয়েছিল। পরিবারের সদস্য ও বন্ধুবান্ধবেরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের দাবি, রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ একটি ফোন আসার পর অনুষ্ঠান ছেড়ে বেরিয়ে যায় কিশোরী। এরপর সে আর বাড়ি ফেরেনি।
রাতভর খোঁজাখুঁজির পর রবিবার সকালে প্রতিবেশীর বাড়ির পিছন থেকে কিশোরীর দেহ উদ্ধার হয়। দেহে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। পরিবারের অভিযোগ, কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। তদন্তে নেমে রবিবারই পরিবারের দূর সম্পর্কের আত্মীয় প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
প্রহ্লাদকে আদালতে পেশ করা হলে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই হেফাজত চলাকালীন সোমবার গভীর রাতে পুলিশের গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশের দাবি, অভিযুক্তের গুলি চালানোর পর আত্মরক্ষার্থেই পাল্টা গুলি চালানো হয়েছিল। ঘটনাটি ঘিরে তদন্ত চলছে।



